এবার তুরস্কে সরকার পতনের ডাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের

তুরস্কের প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টি (সিএইচপি) গত মঙ্গলবার ইস্তাম্বুলে সিটি হলের সামনে বিক্ষোভ করেছে। এ ছাড়া আগামী শনিবার শহরে বড় বিক্ষোভ মিছিল করার পরিকল্পনা করেছে দলটি।

0
76
ছবি: সংগৃহীত

প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের নেতৃত্বাধীন তুরস্ক সরকারের বিরুদ্ধে পতনের ডাক দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ইস্তাম্বুলের মেয়র একরেম ইমামোগলুর মুক্তির দাবিতে অষ্টম দিনের মতো চলমান বিক্ষোভ থেকে এ সরকার পতনের ডাক আসল।

বিবিসি, আল-জাজিরা, রয়টার্সসহ একাধিক গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, বুধবার (২৬ মার্চ) তুরস্কের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরকার পতনের মতো কঠোর আন্দোলনে যাবার ঘোষণা দেয়।

এ কয় দিনে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, আইনজীবীসহ দেড় হাজার মানুষকে আটক করেছে এরদোয়ান সরকার। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বিক্ষোভকারীদের সতর্ক করে বলেছেন, দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারীদের কোথাও জায়গা হবে না। বিক্ষোভ দমনে পুলিশের বলপ্রয়োগ ও ব্যাপক ধরপাকড়ের নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ ও অধিকার সংগঠনগুলো।

এ ছাড়া বিক্ষোভের সংবাদ কভারেজ করায় এএফপির সাংবাদিকসহ সাতজন সাংবাদিককে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার ইস্তাম্বুলের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাজপথে মিছিলে শামিল হন। তাঁরা সরকার পতনের দাবিতে স্লোগান দেন। বিক্ষোভকারী ব্যক্তিদের হাতে থাকা ব্যানার ও পতাকায় এরদোয়ান সরকারের পতনসংক্রান্ত দাবির কথা লেখা ছিল।

শিক্ষার্থীদের মিছিল যাতে উচ্ছৃঙ্খল হয়ে না ওঠে, সে জন্য ইস্তাম্বুলে বিপুল পরিমাণ দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়। শহর কর্তৃপক্ষ সেখানে যেকোনো বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেছে। মূলত উসকানি প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রক্ষার স্বার্থে বিক্ষোভ প্রদর্শনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় বেশ কিছু সড়ক। এ পরিস্থিতিতে পুলিশের কাছে পরিচয় আড়াল রাখতে মুখে মাস্ক পরে বহু শিক্ষার্থী মিছিলে অংশ নেন।

এদিকের সপ্তাহজুড়ে রাজধানী আঙ্কারা, বৃহত্তম শহর ইস্তাম্বুলসহ তুরস্কের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ চলছে। তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলী ইয়ারলিকায়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানান, ১৯ মার্চের পর থেকে ‘বেআইনি’ বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় প্রায় দেড় হাজার ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

বিক্ষোভের কারণে এরদোয়ানের বিপদ বাড়ছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা মনে করছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে এরদোয়ানকে হিমশিম খেতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here