মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ওই ১৪৪ ধারা জারি করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন। তবে দুপুর ৪টা পর্যন্ত কোথাও অপ্রীতিকর কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, জলঢাকা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ‘জাতীয়তাবাদী শক্তি’ ব্যানারে ঈদের দিন বিকেল থেকে পাঁচদিনের ঈদ আনন্দ মেলার আয়োজন করে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আলমগীর হোসেন ও তার সহযোগীরা।
মেলা আয়োজকদের অভিযোগ, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলামের নেতৃত্বে মেলা কমিটির আহ্বায়ক ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আলমগীর হোসেন ও জলঢাকা সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবু সাঈদ শাকিলসহ মেলা কমিটির অন্যান্য সদস্যদের ওপর হামলা ও মেলায় ভাঙচুর চালানো হয়। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় থানার মোড়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয় মেলা আয়োজক কমিটি।
জাতীয়তাবাদী শক্তি নাম ব্যবহার করে মেলার নামে চাঁদাবাজি ও অপকর্মের প্রতিবাদে একই সময়ে থানা মোড়সংলগ্ন সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সমাবেশের ডাক দেয় উপজেলা ও পৌর বিএনপি। উভয়পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি আহ্বানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে শহরে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সোমবার রাতে শহরে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন।
বিষয়টি নিয়ে উভয়ে পক্ষই গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। এ কারণে তাদের কোনো মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে জলঢাকা পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহমেদ সাঈদ চৌধুরী জানান, জলঢাকা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আলমগীর হোসেন ও তার অনুসারীরা জাতীয়তাবাদী শক্তির ব্যানারে জলঢাকা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পাঁচদিনের ঈদ আনন্দ মেলার আয়োজন করেন; যা দলের উপজেলা ও জেলার নেতৃবৃন্দকে অবহিত না করেই করেছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার উভয়পক্ষ পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করে। এ অবস্থায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উপজেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে।
জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরজু মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

