জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে প্রথম দুই সেশনে সাদামাটা বোলিং করেছে বাংলাদেশ। তবে তৃতীয় সেশনে দাপট দেখিয়েছে স্পিনাররা। বিশেষ করে তাইজুল ইসলাম ও নাঈম ইসলাম। এ দুজনের ভেলকিতে ভালোভাবেই ম্যাচে ফিরেছে স্বাগতিকরা।
সোমবার (২৮ এপ্রিল) চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে ওভারের পর ওভার বোলিং করে গেছে বাংলাদেশ। স্বাগতিকদের বোলিং হেসেখেলে সামলে উইকেটে থিতু হয়ে ইনিংস বড় করেছেন জিম্বাবুয়ের ব্যাটাররা।
শুরুর দিকে বেনেট-বেন কারেন জুটি রান তুলেছেন ওভারপ্রতি ৪ করে। বাংলাদেশকে প্রথম ব্রেকথ্রু এনে দেন তানজিম সাকিব। এই পেসারের অফ স্টাম্পের বাইরে থাকা বল কাট করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন বেনেট। ততক্ষণে এই জুটি থেকে আসে ৪১ রান।
দলীয় ৭২ রানে বাংলাদেশ তুলে নেয় ২য় উইকেট। তাইজুল ইসলাম ফেরান বেন কারেনকে। ৫০ বলে ২১ রান করে ফেরেন এই ওপেনার।
৭২ রানে দ্বিতীয় উইকেটের পতনের পর দারুণ এক জুটি গড়ে জিম্বাবুয়ে। তৃতীয় উইকেট জুটিতে নিক ওয়েলচের সঙ্গে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন শন উইলিয়ামস। দুজনে মিলে ৯০ রান যোগ করার পর রিটায়ার্ড হয়ে মাঠের বাইরে যান ওয়েলচ। তার আগেই অবশ্য ব্যক্তিগত ফিফটি তুলে নেন তিনি। ১৩১ বলে করেন অপরাজিত ৫৪ রান।
ওয়েলচ মাঠের বাইরে যাওয়ায় তৃতীয় উইকেটে উইলিয়ামসের সঙ্গে যোগ দেন ক্রেগ আরভিন। অভিজ্ঞ এই ব্যাটার বেশিক্ষণ উইকেটে টিকতে পারেননি। ৩১ বল খেলে ৫ রান করেছেন। আরভিনকে জাকের আলির ক্যাচ বানিয়ে লাঞ্চের পর প্রথম ব্রেকথ্রু এনে দেন নাঈম হাসান।
নিজের পরের ওভারে এসে আবারো উইকেটের দেখা পান নাঈম। এই অফ স্পিনারের করা লেগ স্টাম্পের বাইরের এক বলে সুইপ করতে গিয়ে লেগ স্লিপের হাতের ধরা পড়েন শন উইলিয়ামস। সাজঘরে ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে এসেছে ১৬৬ বলে ৬৭ রান। টেস্টে এটা তার পঞ্চম অর্ধশতক।
শেষ বিকেলে রোডেশিয়ানদের কঠিন পরীক্ষায় ফেলেন তাইজুলরা। ১৫ রান করা মাদেভেরেকেও ফিরিয়েছেন এই বাঁহাতি স্পিনার। তাতে ২০০ রানেই ৫ উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। এরপর ৮১তম ওভারে পরপর দুই বলে উইকেট নিয়েছেন তাইজুল। চতুর্থ বলে ওয়েলিংটন মাসাকাদজাকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন। আর পরের বলে রিচার্ড এনগারাভাকে বোল্ড করেন তাইজুল।
এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি তারা। ২১৭ রানে হারায় নবম উইকেট, তাইজুল ইসলাম পূর্ণ করেন ফাইফার। ৯ উইকেটে ২২৭ রান নিয়ে শেষ করে দিনের খেলা। শেষ জুটিতে লড়ছেন ব্লেসিং মুজারাবানি ও তাফাদজোয়া টিসিগা। নাঈম হাসান দুটি এবং তানজিম হাসান সাকিব একটি উইকেট শিকার করেছেন।

