মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক বাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)-এর মধ্যে চলমান সংঘর্ষের জেরে টেকনাফ সীমান্তে উত্তেজনা বাড়ছে।
শনিবার (২৩ নভেম্বর) সকালে কক্সবাজারের হ্নীলা ইউনিয়নে একটি বাড়ির আঙিনায় গুলি এসে পড়লেও কেউ হতাহত হয়নি।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া গোলাগুলির বিকট শব্দ শনিবার দুপুর পর্যন্ত শোনা যায়। দমদমিয়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহিমের বাড়ির আঙিনায় গুলি পড়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হালিম বলেন, প্রায় ছয় মাস ধরে চলমান এই সংঘর্ষের প্রভাবে টেকনাফ ও উখিয়া সীমান্ত এলাকার মানুষ মানসিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তিনি সরকারিভাবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দা মনির আহমেদ জানান, ভারি গোলার শব্দ সীমান্ত এলাকার মানুষকে আতঙ্কিত করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী স্থানীয়দের সীমান্ত এলাকায় অযথা না যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের সদস্য মোহাম্মদ শরিফ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সীমান্ত এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। এই পরিস্থিতি কতদিন চলবে, তা নিয়ে তারা গভীর উদ্বেগে রয়েছেন।
টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, সীমান্তে গোলাগুলির শব্দ পাওয়া গেছে, তবে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ উল্লাহ নেজামী জানান, সীমান্তে বিজিবি ও কোস্টগার্ডের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে সংঘাতের সুযোগে আবারও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটতে পারে।

