মোঘল স্থাপত্যের গৌরবময় নিদর্শন বাঘা মসজিদ

মোঘল আমলে নির্মিত একটি চমৎকার ইসলামিক স্থাপনা, যা এখনও ধর্মীয় ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। মসজিদটি তার দৃষ্টিনন্দন টেরাকোটা কারুকার্যের জন্য প্রসিদ্ধ।

0
260

রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলায় অবস্থিত বাঘা মসজিদ বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক স্থাপত্য। এটি মোঘল আমলে নির্মিত একটি চমৎকার ইসলামিক স্থাপনা, যা এখনও ধর্মীয় ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। মসজিদটি তার দৃষ্টিনন্দন টেরাকোটা কারুকার্যের জন্য প্রসিদ্ধ।

বাঘা মসজিদ ১৫২৩ সালে সুলতান নাসিরউদ্দিন নুসরত শাহের আমলে নির্মিত হয়। ইতিহাসবিদদের মতে, এটি ছিল স্থানীয় জনগণের জন্য ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক মিলনকেন্দ্র। মসজিদটি প্রাচীন বাংলার সুলতানি স্থাপত্যশৈলীর একটি উজ্জ্বল নিদর্শন।

মসজিদটির ছাদে পাঁচটি আকর্ষণীয় গম্বুজ রয়েছে, যা মূল কাঠামোকে সমর্থন করে। আর দেয়ালে টেরাকোটা ফলকের দৃষ্টিনন্দন কারুকাজ ইসলামী সংস্কৃতি ও শিল্পকলার সমৃদ্ধির প্রতীক। মসজিদের মিহরাব এবং মিনারের জটিল নকশা ও কারুকার্য মোঘল স্থাপত্যের উদাহরণ যা দেখলেই বোঝা যায়।

মূলত ‘বাঘা’ নামটির উৎপত্তি সম্পর্কে কিংবদন্তি রয়েছে যে, মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় একসময় বাঘের উপদ্রব ছিল। স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন, এ মসজিদ স্থাপিত হওয়ার পর বাঘের উপদ্রব দূর হয়, যা এর নামকরণের কারণ।

বাঘা মসজিদ শুধু একটি ধর্মীয় উপাসনালয় নয়; এটি ইসলামী সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল প্রতীক। স্থানীয়রা বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব, যেমন ঈদ এবং রমজান মাসে, এখানে জমায়েত হন।

বাঘা মসজিদ বর্তমানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে রয়েছে। এটি দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে স্বীকৃত। পর্যটক ও গবেষকদের কাছে মসজিদটি অত্যন্ত আকর্ষণীয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here