সিরাজগঞ্জের তাড়াশে হাট-বাজার দীর্ঘ দিন উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত

0
88
ফাইল ছবি

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে হাট-বাজার ইজারা থেকে রাজস্ব পাওয়া কোটি কোটি টাকা পরে আছে ব্যাংকে। অথচ, হাট-বাজারগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বেহাল দশা। মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে অন্তহীন। আশঙ্কাজনকহারে কমে গেছে ক্রেতা-বিক্রেতা। বিশেষ করে এক সময়ের প্রসিদ্ধ হাট-বাজার ভেঙে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক বলেন, আগের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নরুল ইসলাম ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে তাড়াশের ২৫ টি হাট-বাজার উন্নয়নের পরিকল্পনা চুড়ান্ত করেন। এতদিনে টেন্ডার হয়ে যেতো। কিন্ত তার বদলিজনিত কারণে আরো কিছুটা সময় লেগে যেতে পারে। বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহানের সম্মতি পাওয়া গেলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা হবে।

প্রসিদ্ধ বৃত্তর নওগাঁ হাটের ইজারাদার মো. নিজাম উদ্দীন বলেন, ২ কোটি ৮৪ লাখ ৯৬ হাজার টাকা দিয়ে নওগাঁ হাট ইজারা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরো ২৪ টি হাট-বাজার রয়েছে। এসব হাট-বাজার থেকে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পায় সরকার। যুগ পেরিয়ে গেছে হাট-বাজারের কোনো উন্নয়ন নেই। হাটের সেডগুলো ভেঙে পড়েছে। হাটের ভেতরের রাস্তাগুলো চলাচলের অনুপযোগী। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতায় বাড়ছে জনদুর্ভোগ। বৃত্তর এ হাটে লাখ মানুষের সমাগত ঘটে।

প্রসিদ্ধ বিনসাড়া হাটের ইজারাদার নুরুল ইসলাম বলেন, বিনসাড়া হাট উপজেলার সবচেয়ে বড় ধানের হাট নামে খ্যাত। এ হাটে ধান বেচা-কেনার জন্য কোনো সেড নেই। নিরুপায় হয়ে এলাকার কৃষকরা হাটের পাশের ব্যস্ততম রাণীর হাট আঞ্চলিক সড়কের উপর দুইধারে ধান বেচতে বসেন। মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ধান বেচা-কেনা হয়। এ হাটে কোনো এক কালে একটি মাছের সেড নির্মাণ করা হয়েছিলো। সেডটি না জানি কখন মাথার উপর ভেঙে পড়ে। হাটে ক্রেতা-বিক্রেতা একেবারেই কমে গেছে। শত বছরের হাট ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

তাড়াশ পৌর শহরের তাড়াশ বাজারের সাবেক সেক্রেটারি বীর মুক্তি যোদ্ধা এস এম আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তাড়াশ বাজারের অবস্থা আরো নাজুক। এলজিইডির নির্মিত বাজারের তিনটি সেড ভেঙে গেছে। এ নিয়ে বহুবার মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় আলোচনা হয়েছে। কার্যত হাট-বাজার উন্নয়নে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।

অপরদিকে ভুক্তভোগী ক্রেতা-বিক্রেতারা জানিয়েছেন, একটি হাট-বাজারেও ছাউনি নেই। রোদে পুড়তে হয়, বৃষ্টিতে ভিজতে হয়। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতে কাদাপানি জমে হাটাচলা মুশকিল হয়ে পড়ে। নলক‚প ও গণশৌচাগার নেই বললেই চলে।

সরেজমিনে প্রসিদ্ধ বিনসাড়া হাটে দেখা গেছে, রাণীহাট আঞ্চলিক সড়কের উপর ধানের হাট বসেছে। এ হাটের মাছের সেডটি যে কোনো মুহুর্তে ভেঙে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। প্রসিদ্ধ নওগাঁ হাট, গুল্টা হাটসহ ছোট-বড় সব হাট-বাজারের অবস্থা অনুরূপ। এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান বলেন, হাট-বাজার উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। সময় মতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here