ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার শেরপুর ইউনিয়নের বনগ্রাম চৌরাস্তা এলাকায় স্ত্রীকে লাথি মেরে হত্যার অভিযোগে উঠেছে।
গতকাল শনিবার নান্দাইল মডেল থানা পুলিশ স্বামী দুলাল মিয়াকে আটক করেছে।
নিহত নারী শেরপুর ইউনিয়নের ইলাশপুর গ্রামের আব্দুল মতিনের মেয়ে জেবিন আক্তার (৩০)।
জানা যায়, ১৩ বছর আগে উপজেলার শেরপুর ইউনিয়নের সংগ্রামখেলী গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে দুলালের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের দুই সন্তান রয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, দুলাল মিয়া দীর্ঘ বছর বিদেশে অবস্থান শেষে দেশে আসার পর স্ত্রীর সন্দেহ তৈরি হয়। জেবিন আক্তার মনে করেন স্বামী দুলাল মিয়া অন্যত্র বিয়ে করেছেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। অবশেষে সালিস দরবার করেও বিষয়টির মীমাংসা করা যায়নি। পরে দুলাল মিয়া কাউকে না বলে আবারও বিদেশে যেতে বাড়ি থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা করেন। খবর পেয়ে স্ত্রী জেবিন আক্তার কৌশলে স্বামী দুলাল মিয়াকে গফরগাঁও থেকে বাড়িতে নিয়ে আসার চেষ্টা করেন। পথিমধ্যে বনগ্রাম চৌরাস্তা এলাকায় চলন্ত অটোরিকশা থেকে স্বামী দুলাল তার স্ত্রী জেবিনকে লাথি মেরে সড়কে ফেলে দেন। এতে জেবিন আক্তার মাথায় আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
তবে, এ বিষয়ে দুলাল মিয়া বলেন, ‘বউ আমাকে সন্দেহ করে আমি নাকি অন্যত্র বিয়ে করেছি। আজ (শনিবার) আমি বিদেশ চলে যাচ্ছিলাম। পরে তারা গফরগাঁও থেকে আমাকে নিয়ে আসে। বউ চলন্ত গাড়ি থেকে পড়ে গিয়ে মারা গেছে। আমি লাথি মারিনি।’
নান্দাইল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘লাথি মেরে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে দুলালকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে পরবর্তীতে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

