যশোরের শার্শায় ভ্যান থামিয়ে হতদরিদ্র নারীদের সরকারি চাল ছিনতাই

0
47

যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশী ইউনিয়নে সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির (ভিডব্লিউভি) আওতায় হতদরিদ্র নারীদের মধ্যে বিতরণ করা চাল ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার অনুসারীদের বিরুদ্ধে।

ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার ধলদা মোড় এলাকায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওইদিন ভিডব্লিউভি তালিকাভুক্ত প্রত্যেক নারী সদস্যকে উলাশী ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ৩ বস্তা করে চাল দেওয়া হয়। নারী সদস্যরা চাল ভ্যানে করে নিজ নিজ বাড়িতে নেওয়ার পথে ধলদা মোড়ে কিছু লোক ভ্যান থামিয়ে জোরপূর্বক চাল ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ ওঠে।

অভিযুক্তরা হলেন—ধলদা গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে ইয়ানুর, রাজ্জাক বিশ্বাসের ছেলে মিজানুর বিশ্বাস, সুরত আলীর ছেলে মশিয়ার ও আতিয়ার বিশ্বাসের ছেলে রফিকুল। স্থানীয়রা জানান, এরা সবাই শার্শা উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আমিনুর রহমান নেদারের ঘনিষ্ঠ অনুসারী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নারী জানান, “ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আমাদের ৩ বস্তা করে চাল দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ধলদা মোড়ে পৌঁছালে তারা পথ আটকে দাঁড়ায়। বাধ্য হয়ে ১ বস্তা করে চাল দিয়ে আসতে হয়। কেউ কিছু বললে গালিগালাজ করে তাড়িয়ে দেয়।”

আরেক নারী বলেন, “সরকার যে সহায়তা দিচ্ছে, সেটাও যদি ভয় দেখিয়ে কেড়ে নেয়, তাহলে আমরা যাব কোথায়? গরিবের মুখের খাবারটুকুও লুটে নিচ্ছে ওরা।”

স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ঘটনার কথা শুনেছি। অভিযুক্তরা রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় থাকায় কেউ প্রকাশ্যে কিছু বলতে চায় না। তবে প্রশাসনের দ্রুত তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

অভিযুক্তদের মধ্যে মশিয়ারসহ কয়েকজন উপস্থিত থাকার কথা স্বীকার করলেও চাল ছিনতাইয়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, ঘটনাস্থলে থাকলেও তারা কোনো অনিয়মে জড়িত ছিলেন না।

শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ডা. কাজী নাজিব হাসান বলেন, “যদি হতদরিদ্রদের চাল বাড়ি নেওয়ার পথে কেউ জোর করে নিয়ে নেয়, সেটা অবশ্যই ছিনতাই। আমি শার্শা থানার ওসিকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছি।”

শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কেএম রবিউল ইসলাম বলেন, “এ বিষয়ে থানায় এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের ঘটনা সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করছে। দ্রুত দায়ীদের আইনের আওতায় না আনলে ভবিষ্যতে এই সহায়তা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here