গাজা নিয়ে মতোবিরোধের পর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রেস অফিসারকে বরখাস্ত

0
51

ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার বিষয়ে ভাষার ব্যবহার এবং নিহত সাংবাদিকদের প্রতি সমবেদনা জানানোর বিষয়ে মতোবিরোধের পর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন প্রেস অফিসারকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

বুধবার (২০ আগস্ট) ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। বরখাস্তকৃত শাহেদ ঘোরেইশি দপ্তরের ইসরায়েল-ফিলিস্তিন বিষয়ক শীর্ষ প্রেস অফিসার ছিলেন।

ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, শাহেদ একটি বিবৃতির জন্য বাক্য তৈরি করেছিলেন, ‘আমরা গাজায় ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি সমর্থন করি না।’ দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্তারা এই লাইনটি প্রত্যাখ্যান করেন। কর্মীদের স্পষ্টভাবে লাইনটি কেটে ফেলার নির্দেশ দেয়।

শাহেদ মার্কিন সংবাদপত্রটিকে জানিয়েছেন, তাকে বরখাস্ত করার কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তার মতে, তিনি গণমাধ্যমের জন্য যে ভাষা সুপারিশ করেছেন, তা ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বক্তব্যেরই প্রতিধ্বনি। কেননা বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফসহ মার্কিন কর্মকর্তারা গাজা থেকে ‘উচ্ছেদের পরিকল্পনা’ অনুসরণ করবে না বলে জানিয়েছেন।

১০ আগস্ট গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে নিহত আল জাজিরার সাংবাদিক আনাস আল-শরিফ এবং অন্যান্য সাংবাদিকদের প্রতি শোক প্রকাশ করা হবে কিনা, তা নিয়ে পূর্বে শাহেদের সঙ্গে কর্মকর্তারদের মতোবিরোধ হয়।

শাহেদ একটি বাক্য সুপারিশ করেছিলেন: ‘আমরা সাংবাদিকদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছি এবং তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।’

কিন্তু পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে ১০ আগস্ট একটি ই-মেইলে শাহেদের এই বাক্যের আপত্তি জানিয়ে বলা হয়: ‘কোনো প্রতিক্রিয়ার প্রয়োজন নেই। যদি আমরা এই ব্যক্তির কর্মকাণ্ড সম্পর্কে নিশ্চিত না হই, তবে আমরা সমবেদনা জানাতে পারি না।’

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুসারে, দপ্তরের ভেতরে শাহেদের একজন প্রধান প্রতিপক্ষ ছিলেন ডেভিড মিলস্টেইন। এই ব্যক্তি ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবির একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ছিলেন।

বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত কর্মকর্তারা ওয়াশিংটন পোস্টকে জানিয়েছেন, ডেভিড মিলস্টেইন প্রায়শই ইসরায়েলি সরকারি অবস্থান ব্যক্ত করে সহকর্মীদের সঙ্গে মতোবিরোধে জড়ান। তিনি নিজের আনুষ্ঠানিক ভূমিকার বাইরেও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here