ভারত রাশিয়ার তেল কিনছে মার্কিন ডলারে: ট্রাম্পের উপদেষ্টার সমালোচনা

0
43

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে কেন্দ্র করে ভারতকে কঠোর সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো। নাভারোর দাবি, রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যের জন্য ভারত যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের ওপর নির্ভরশীল। তিনি আরও বলেন, ভারতের এই ব্যবসা ন্যায্য শুল্ক আরোপের কারণ হয়েছে এবং এতে ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধে রাশিয়ার সাহায্য হচ্ছে।

সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাভারো অভিযোগ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য থেকে আসা ডলার ব্যবহার করে ভারত সস্তায় রুশ অপরিশোধিত তেল কিনছে। এরপর তা শোধন করে আন্তর্জাতিক বাজারে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। নাভারো আরও বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর আগে ভারতের তেলের আমদানিতে রাশিয়ার অংশ ছিল মাত্র ১ শতাংশের কম, কিন্তু যুদ্ধের পর তা বেড়ে ৩০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ভারতের লক্ষ্য শুধু নিজেদের চাহিদা পূরণ নয়, বরং স্বল্পমূল্যে রাশিয়ার তেল কিনে আন্তর্জাতিক বাজারে লাভবান হওয়াও।

নাভারো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি এবং রাশিয়ার তেল আমদানি নিয়ে অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, ভারত রাশিয়ার তেল শোধনাগারে পরিণত হয়েছে এবং সেখান থেকে অর্জিত অর্থ মস্কোকে ইউক্রেনের যুদ্ধ চালাতে সাহায্য করছে। ভারতের এই কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা, ব্যবসা ও শ্রমিকদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে। নাভারো এমনকি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নীতি কে ‘মোদির যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি দাবি করেন, ভারত যুক্তরাষ্ট্রকে ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যয় বহনের দিকে ধके দিচ্ছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদেরও খরচ হচ্ছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেছেন, ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে শুধু তেল নয়, অস্ত্রও কিনছে এবং একই সঙ্গে মার্কিন কোম্পানিগুলো থেকে উন্নত সামরিক প্রযুক্তি ও ভারতে কারখানা স্থাপনের সুযোগ গ্রহণ করছে। নাভারো মনে করেন, এটি হচ্ছে ‘কৌশলগতভাবে ফ্রি সুবিধা নেওয়া’। তার মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভারতের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপের ঘোষণা আসে।

ভারত অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ১.৪ বিলিয়ন মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য ভারত যেখানে সবচেয়ে কম দামে তেল পাবেন, সেখান থেকেই তেল কিনবে। রাশিয়া থেকে তেল কেনার নীতি চালু থাকবে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নাভারোর মন্তব্য ও আমদানি শুল্ক আরোপ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মার্কিন প্রশাসন রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যকে একমাত্র রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে। তবে ভারতের বক্তব্য পরিষ্কার—দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রথম লক্ষ্য, যা আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যেও অগ্রাধিকার পাবে।

তথ্যসূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া