আমেরিকায় ডাক পরিষেবা আপাতত স্থগিত করার সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের

0
56

ভারত, ব্রিটেন, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, নিউ জ়িল্যান্ডের পথেই হাঁটল পাকিস্তান। আমেরিকায় কোনও চিঠি বা পার্সেল পাঠানোর ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করল শাহবাজ় শরিফের সরকার। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নয়া শুল্কনীতির কারণে সাময়িক ভাবে আমেরিকায় ডাক পরিষেবা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিল পাকিস্তান।

আমেরিকা বিভিন্ন দেশের উপর নতুন হারে শুল্ক আরোপ করেছে। সেই তালিকায় যেমন বাদ যায়নি ভারত, তেমনই রয়েছে পাকিস্তানও। তবে ভারতের তুলনায় অনেকটাই কম হারে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে পাকিস্তানের উপর। শুল্ক ঘোষণার সময় ট্রাম্প জানিয়েছিল, ভারতকে ২৫ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। আর পাকিস্তানি পণ্যের উপর ১৯ শতাংশ শুল্ক ধার্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যদিও পরে ভারতের উপর আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপান তিনি। রাশিয়া থেকে তেল কেনার ‘জরিমানা’ হিসাবেই ভারতকে দিতে হবে অতিরিক্ত শুল্ক। ট্রাম্পের এই নীতি ভারত-আমেরিকা সম্পর্কে ‘কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে সেই আবহে পাকিস্তানের সঙ্গে বন্ধুত্ব আরও ‘গাঢ়’ হয়েছে আমেরিকার। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েক দিনের ব্যবধানে দু’বার আমেরিকায় গিয়েছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। শুধু তা-ই নয়, দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি চুক্তিও স্বাক্ষর হয়েছে। তবে তার পরও শুল্ককাঁটা থেকে অব্যাহতি পায়নি পাকিস্তান। কাজে দেয়নি ট্রাম্পের গুণগান গাওয়া।

ট্রাম্পের নীতির কারণে পাকিস্তান থেকে আমেরিকায় পাঠানো জিনিসের উপর অতিরিক্ত শুল্ক গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ মানুষকে। প্রভাব পড়েছে ডাক ব্যবস্থাতেও। শুধু চিঠি নয়, অন্য অনেক জিনিসও ডাকের মাধ্যমে আমেরিকায় পাঠান পাকিস্তানের নাগরিকেরা। তবে আপাতত সেই ব্যবস্থা স্থগিত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের ডাক বিভাগ। শুধু তা-ই নয়, ইতিমধ্যে যাঁরা আমেরিকায় চিঠি বা পার্সল পাঠানোর জন্য নথিভুক্ত করেছেন, তাঁদের জিনিস ফেরত পাঠানো হবে বলেই খবর, স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে।

আমেরিকায় ডাক পরিষেবা স্থগিত করা পথে হেঁটেছে বিশ্বের ২৫টির বেশি দেশ। রাশিয়া, জার্মানি, অস্ট্রিয়া, ফ্রান্স, সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলোও একই পথে হেঁটেছে। এ বার সেই তালিকায় যুক্ত হল পাকিস্তান।

তথ্য সূত্র: আনন্দ বাজার পত্রিকা