স্পেনে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভের মুখে জার্সি থেকে ‘ইসরায়েল’ নাম সরাল সাইক্লিং দল

0
39

স্পেনে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভের কারণে বড় বিতর্কে পড়েছে ইসরায়েলি সাইক্লিং দল। লা ভুয়েল্তা প্রতিযোগিতায় নিজেদের জার্সি থেকে ‘ইসরায়েল’ নাম সরিয়ে নিয়েছে দলটি। এ ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে রাজনীতি থেকে ক্রীড়াঙ্গন পর্যন্ত।

চলতি সেপ্টেম্বরে স্পেনে লা ভুয়েল্তা সাইক্লিং প্রতিযোগিতা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণ দেখিয়ে ইসরায়েল-প্রিমিয়ার টেক দল ঘোষণা করে, প্রতিযোগিতার পুরো সময় তাদের জার্সিতে আর ‘ইসরায়েল’ নাম থাকবে না। এর আগে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভে প্রতিযোগিতা বারবার ব্যাহত হওয়ায় দলটি এ সিদ্ধান্ত নেয়।

শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে টিআরটি ওয়ার্ল্ড জানায়, স্পেনে তীব্র বিক্ষোভের মুখে ইসরায়েল-প্রিমিয়ার টেক দল তাদের জার্সি থেকে দেশের নাম মুছে দিয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, “প্রতিবাদকারীদের আচরণ বিপজ্জনক হয়ে ওঠায় আমাদের সাইক্লিস্ট ও পুরো পেলোটনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।” এখন তাদের জার্সি গাড়ি ও সাধারণ পোশাকের মতোই একরূপ, যেখানে ‘ইসরায়েল’ শব্দ নেই।

গত কয়েকদিন ধরে প্রতিযোগিতাটি ঘিরে উত্তেজনা চলছিল। বিলবাওয়ে বুধবারের ধাপ শেষ করতে হয়েছিল ৩ কিলোমিটার আগেই। শুক্রবার আস্তুরিয়াসে সড়কে বসে থাকা বিক্ষোভকারীদের সরাতে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে অন্তত ৩০ সেকেন্ড পিছিয়ে পড়েন সামনের সারির সাইক্লিস্টরা। শনিবার অবশ্য প্রতিযোগিতা নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠিত হয়, তবে রাস্তাজুড়ে ফিলিস্তিনি পতাকা ও যুদ্ধবিরোধী স্লোগান দেখা গেছে।

এ ঘটনায় রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও দেখা দিয়েছে। স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস দাবি করেছেন, ইসরায়েলি দলকে প্রতিযোগিতা থেকে বহিষ্কার করা উচিত। তিনি ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভকারীদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। অন্যদিকে, দলের সহ-মালিক ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী সিলভান অ্যাডামস স্পেনের বাস্ক অঞ্চলের প্রতিবাদকারীদের “সন্ত্রাসী” আখ্যা দেন। নেতানিয়াহু নিজেও এক্সে পোস্ট করে দলটির প্রশংসা করেন এবং তাদের ‘ইসরায়েলের গর্ব’ বলে উল্লেখ করেন।

লা ভুয়েল্তার আয়োজক সংস্থা আমোরি স্পোর্ট অর্গানাইজেশন দলটিকে প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়াতে বলেছিল বলে জানা গেছে। তবে দলটি এখনো প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে। লা ভুয়েল্তা শেষ হবে ১৪ সেপ্টেম্বর, মাদ্রিদে, যেখানে ইতোমধ্যেই বড় আকারের ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এদিকে, ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৪০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অবরোধে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ ও মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠছে—যেখানে ইউক্রেন যুদ্ধের সময় রাশিয়াকে তৎক্ষণাৎ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, সেখানে ইসরায়েলকে একইভাবে কেন নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না।

তথ্যসূত্র : টিআরটি ওয়ার্ল্ড