জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে আরব ও মুসলিম বিশ্বের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গাজায় ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ বন্ধের উপায় নিয়েই এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যা ট্রাম্প নিজেই ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, বৈঠকের শুরুতে সংবাদমাধ্যমকে ট্রাম্প বলেন, “আমরা গাজার যুদ্ধ শেষ করতে চাই। আমরা এটা শেষ করব। হয়তো এখনই শেষ করতে পারি।” তিনি আরও বলেন, “এটাই আমার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। কারণ, আমরা এমন কিছু শেষ করতে যাচ্ছি, যা আদৌ শুরু হওয়াই উচিত ছিল না।”
সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মিশর, জর্ডান, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানের নেতারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। ট্রাম্প বলেন, আলোচনায় সব গুরুত্বপূর্ণ পক্ষই ছিল, শুধু ইসরায়েল ছাড়া। তবে তিনি জানান, সেটি হবে “পরের ধাপ।” আগামী সপ্তাহে হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
ট্রাম্প বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর বক্তব্যের প্রশংসা করেন। সুবিয়ান্তো জাতিসংঘে বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি।
বৈঠক শেষে ট্রাম্প সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো মন্তব্য না করলেও তাঁর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ‘থাম্বস-আপ’ দেখিয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দেন। প্রত্যাশা ছিল, গাজার যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা প্রকাশ করবেন ট্রাম্প বা উইটকফ। কয়েক মাস ধরে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার এই পরিকল্পনা তৈরি করছেন।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বৈঠককে “খুব ফলপ্রসূ” বলে বর্ণনা করেন। গাজায় ইসরায়েলের হামলার তীব্র সমালোচক এরদোয়ান ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আনেন এবং তুরস্ক ইতিমধ্যে দেশটির সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করেছে। তিনি আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবি তোলেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ওয়াম জানায়, বৈঠকে গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা, সব জিম্মিকে মুক্ত করা এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে মানবিক সংকট মোকাবিলা নিয়ে অগ্রাধিকারভিত্তিক আলোচনা হয়।
এরদোয়ান জানান, বৈঠকের একটি যৌথ ঘোষণা প্রকাশ করা হবে এবং তিনি এর ফলাফল নিয়ে “সন্তুষ্ট।”
সূত্র: এএফপি

