রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে আফগানিস্তানকে হারাল বাংলাদেশ

0
46

এশিয়া কাপে ব্যাটিং ব্যর্থতার পর আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে জয় দিয়ে শুরু করেছে বাংলাদেশ। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৭ উইকেটে জয় পেলেও এই জয় সহজে আসেনি। এক সময় সহজ জয়ের পথে থেকেও, হঠাৎ ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে কঠিন হয়ে গিয়েছিল ম্যাচ।

আগে ব্যাটিং করে আফগানিস্তান ৯ উইকেটে ১৫১ রান করে। বাংলাদেশ এই লক্ষ্য ৮ বল বাকি থাকতেই পূরণ করে নেয়।

১৫১ রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। তানজিদ হাসান ও পারভেজ হোসেন ইমন সাবলীল ব্যাটিংয়ে আশা জাগান। পাওয়ার প্লে’তে ৫০ রান তোলে দল, এবং ১০.৫ ওভারেই ১০০ রান স্পর্শ করে।

এরপরই নামে বিপর্যয়। ১০৯ রান যোগ করার পর এই জুটি ভাঙতেই যেন পুরনো চেহারায় ফিরে আসে বাংলাদেশ। ৫৪ রানে পারভেজ এবং ৫১ রানে তানজিদ ফেরার পর শুরু হয় আসা-যাওয়ার পালা। সাইফ, জাকের, শামীম ও তানজিম সিঙ্গেল ডিজিটে আউট হন। সাইফ, শামীম ও তানজিম তো রানের খাতা খুলতেই পারেননি। ১০৯ রান থেকে ১১৮ রানে যেতে বাংলাদেশ হারায় ৬ উইকেট।

আফগানিস্তানের তারকা স্পিনার রশিদ খান একাই নেন ৪ উইকেট, যার ঝড়ে বাংলাদেশের জেতা ম্যাচ মনে হচ্ছিল দূর আকাশের তারা।

শেষ ২৪ বলে বাংলাদেশের দরকার ছিল ৩৪ রান, হাতে ছিল ৪ উইকেট। এই অবস্থায় ব্যাটিংয়ে নামা রিশাদ ও সোহান (নুরুল হাসান) হাল ধরেন। তাঁরা স্নায়ু স্থির রেখে প্রয়োজনীয় রান যোগ করতে থাকেন।

শেষ ১২ বলে জয়ের জন্য দরকার ছিল ১৬ রান। আজমতউল্লাহর করা ওভারের প্রথম দুই বলেই সোহান লং অন ও ডিপ থার্ডম্যান দিয়ে দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে হিসেব সহজ করে দেন। এরপর রিশাদ চতুর্থ বলে উইকেট কিপারের মাথার ওপর দিয়ে চার মেরে জয় নিশ্চিত করেন।

সোহান ২৩ ও রিশাদ ১৪ রানে অপরাজিত থেকে বাংলাদেশকে স্বস্তি ফিরিয়েছেন। এই জয়ের ফলে বাংলাদেশ তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল।

শারজাহ স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা আফগানিস্তানের ব্যাটিং প্রত্যাশা মতো জমেনি। শত রানের আগেই তারা ৬ উইকেট হারায়। ওপেনার ইব্রাহিম জাদরান ১৫ রানে আউট হন। যদিও ওপেনার গুরবাজ ৩১ বলে ৪০ রান করে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস খেলেন। এরপর আফগানিস্তানের ভরসা ছিলেন কেবল মোহাম্মদ নবী, যিনি ২৫ বলে ৩৮ রান করেন (১টি চার ও ৪টি ছক্কা)।

বাংলাদেশের পক্ষে রিশাদ হোসেন ও তানজিম হাসান ২টি করে উইকেট নেন। তাসকিন, মোস্তাফিজ ও নাসুম ১টি করে উইকেট শিকার করেন। তানজিমের শেষ ওভারে ১৪ রান আসায় আফগানিস্তানের স্কোর ১৫১-এ পৌঁছায়।

৩৭ বলে ৫৪ রান করার জন্য পারভেজ হোসেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার পেয়েছেন।