প্রয়াত চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার প্রধান আসামি সামিরা হক হাইকোর্টে আগাম জামিন চাইবেন। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) সকালে জামিন শুনানির বিষয়ে আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতে সামিরার বর্তমান স্বামী ইশতিয়াক আহমেদকে হাইকোর্টে আসতে দেখা যায়। এদিন সকাল ৯টায় তাকে আপিল বিভাগে বসে থাকতে এবং বেশ কয়েকজন সিনিয়র আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়।
এর আগে, সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক এবং খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন আদালত।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুজ্জামান এ আদেশ দেন। ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের এডিসি (প্রশাসন) নাসির আহম্মেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে গত ২২ অক্টোবর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রমনা থানার পুলিশ পরিদর্শক আতিকুল আলম খন্দকার তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন।
মামলাটি আদালতের নির্দেশে পুনরায় তদন্তাধীন থাকায় আসামিরা যেন দেশ ত্যাগ করতে না পারে, সেজন্য রমনা থানা থেকে সংশ্লিষ্ট সব বিমান ও স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের আসামিরা যাতে দেশত্যাগ করতে না পারে, সে লক্ষ্যে দিনাজপুরের হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টেও বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২০ অক্টোবর সালমান শাহর অপমৃত্যু মামলাকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের নির্দেশ দেন আদালত। মহানগর দায়রা জজ আদালতের নির্দেশের ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন সালমান শাহর মামা আলমগীর কুমকুম। এরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুনঃতদন্তে নতুন তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের কাজ চলছে।
সালমান শাহ হত্যা মামলায় সর্বমোট ১১ জনকে আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। হত্যা মামলায় প্রধান আসামি নায়কের সাবেক স্ত্রী সামিরা হক। অন্য ১০ আসামিরা হলেন প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক ডন, লতিফা হক লুসি, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, মেফিয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আবদুস সাত্তার, সাজু ও রেজভী আহমেদ ফরহাদ।