দাবিতে অটল শিক্ষকরা: টানা কর্মবিরতিতে স্থবির শিক্ষা কার্যক্রম

0
44

সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষকদের দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো অগ্রগতি না থাকায় দ্বিতীয় দিনের মতো আজও টানা পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করছেন শিক্ষকরা। এতে সারাদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর বার্ষিক পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে এবং মাধ্যমিক স্তরের বার্ষিক ও নির্বাচনী পরীক্ষা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পরীক্ষাবর্জন, খাতা মূল্যায়ন বন্ধ ও কর্মবিরতি অব্যাহত থাকায় দুই স্তরের শিক্ষাব্যবস্থা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

সোমবার (১ ডিসেম্বর) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের আহ্বায়ক আবুল কাসেম মোহাম্মদ শামছুদ্দীন জানিয়েছেন, মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর)ও পূর্ণদিবস কর্মবিরতি ও পরীক্ষাবর্জন চলবে।

তিনি বলেন, “টানা তৃতীয় দিনের মতো সারাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষাবর্জন ও কর্মবিরতি পালিত হয়েছে। সহকর্মী শহীদ ফাতেমা আক্তারের আত্মত্যাগসহ দুই শতাধিক শিক্ষকের রক্ত কোনোভাবেই বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আশ্বাস সত্ত্বেও ১১তম গ্রেডসহ তিন দফা দাবির বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের তিন দফা দাবি
১. সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা
২. ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার জটিলতা দূর করা
৩. সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি নিশ্চিত করা

এন্ট্রি–পদের বেতন ৯ম গ্রেডসহ চার দফা দাবিতে দুই দিনের অবস্থান কর্মসূচি ও আলটিমেটাম শেষে সমাধান না পেয়ে সোমবার থেকে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি শুরু করেছে বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি।

এর অংশ হিসেবে শিক্ষকরা— বার্ষিক পরীক্ষা, এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষা, খাতা মূল্যায়ন, এ সকল দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

শিক্ষকদের কর্মবিরতি চললেও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এক অফিস আদেশে জানিয়েছে, সরকারি–বেসরকারি সব মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বার্ষিক, নির্বাচনী ও জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

নির্ধারিত সময়সূচি হলো—

বার্ষিক পরীক্ষা: ২০ নভেম্বর–৭ ডিসেম্বর
নির্বাচনী পরীক্ষা: ২৭ নভেম্বর–১১ ডিসেম্বর
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা: ২৮–৩১ ডিসেম্বর

পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের জন্য আঞ্চলিক উপপরিচালক, জেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এবং বিদ্যালয়ের প্রধানদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শৈথিল্য বা অনিয়ম ধরা পড়লে ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে মাউশি।

উভয় স্তরের শিক্ষকরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন— দাবি বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত তারা কর্মবিরতি ও পরীক্ষাবর্জন থেকে সরে আসবেন না।

ফলে দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যক্রম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।