অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (এডিইউএসটি) সমাবর্তন আজ শনিবার (৬ ডিসেম্বর ২০২৫) ঢাকার বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সমাবর্তনে বক্তারা সদ্য গ্র্যাজুয়েটদের ‘নতুন বাংলাদেশের কারিগর’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং বিশেষ দক্ষতা অর্জনের ওপর জোর দেন।
সমাবর্তনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এস. এম. এ. ফায়েজ। সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আনম এহসানুল হক মিলন।
প্রধান অতিথি প্রফেসর ড. এস. এম. এ. ফায়েজ গ্র্যাজুয়েটদের অভিনন্দন ও শুভকামনা জানিয়ে বলেন, ‘‘তোমরাই নতুন বাংলাদেশের কারিগর। জুলাই আন্দোলনে তোমাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আমরা পেয়েছি নতুন বাংলাদেশ।’’
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ হলো জ্ঞান ও উদ্ভাবনকে সমৃদ্ধ করা। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একসাথে এগিয়ে আসতে হবে। মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর-এর প্রতিনিধি হিসেবে তিনি শিক্ষার্থীদের হাতে সার্টিফিকেট ও মেডেল তুলে দেন।
অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান এম. শামসুল আলম লিটন গ্র্যাজুয়েটদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, দেশে ৪০ লাখ উচ্চ শিক্ষিত বেকার থাকার বাস্তবতা অস্বীকার করা যায় না।
তিনি বলেন, ‘‘তাই অতীশ দীপঙ্কর বিশ্ববিদ্যালয় গুণগত ও যুগোপযোগী শিক্ষার পাশাপাশি বিশেষ দক্ষতা অর্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। ইতোমধ্যে স্কিলস ডেভেলপমেন্ট ইন্সটিটিউট (এসডিআই) প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাস্তব যোগ্যতা, ডিজিটাল দক্ষতা ও ভোকেশনাল অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে।’’
সমাবর্তন বক্তা ড. আনম এহসানুল হক মিলন সদ্য গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে বলেন, ‘‘আপনাদের কয়েক বছরের মেধা ও পরিশ্রমের বিনিময়ে আপনারা গ্র্যাজুয়েট সম্মান অর্জন করেছেন। কিন্তু এটা শেষ নয়, বরং শুরু। আপনাদের সাফল্য নির্ভর করছে আপনাদের অব্যাহত প্রচেষ্টা, পরিশ্রম, সহনশীল আর পরিস্থিতির সঙ্গে খাপখাওয়ানোর সক্ষমতার ওপর।’’
বিশেষ অতিথি ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষম কারিকুলামের ওপর জোর দেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, অতীশ দীপঙ্কর বিশ্ববিদ্যালয় ভবিষ্যতের সমৃদ্ধ বাংলাদেশের উপযোগী নাগরিক গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে।
এবারের সমাবর্তনে সর্বমোট ২ হাজার ৩২৬ জন শিক্ষার্থীকে গ্র্যাজুয়েশন ও মাস্টার্স ডিগ্রি প্রদান করা হয়।
ইউজিসি চেয়ারম্যান ২৭ জন শিক্ষার্থীকে বিশেষ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করেন। এরমধ্যে ৬ জন ‘চ্যান্সেলর’স অ্যাওয়ার্ড’, ৫ জন ‘বিওটি চেয়ারম্যান’স অ্যাওয়ার্ড’ এবং ১৬ জনকে ‘ভাইস চ্যান্সেলর’স অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয়।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম সহ আমন্ত্রিত অভিভাবক, শিক্ষাবিদ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সমাবর্তনের শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিশেষ লেজার শো অনুষ্ঠিত হয়।