একই দিনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তবে সব দলের জন্য সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে দলটি।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জাতির উদ্দেশে ভাষণে ঘোষণা করেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) ৩০০ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একই সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদ–সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫-এর ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ২৯ ডিসেম্বর এবং বাছাই হবে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত।
তফসিল ঘোষণার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজধানীতে দলীয় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানাতে সংবাদ সম্মেলন করে জামায়াত।
সংবাদ সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, “জাতি দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করছিল, সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ ও শিডিউল কবে ঘোষণা হবে। কিছুটা অনিশ্চয়তা, সন্দেহ ও সংশয়ে আমরা ছিলাম। আজকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ঘোষণার মাধ্যমে সেই সংশয়ের অবসান হয়েছে। ঘোষিত তফসিলকে জাতির সঙ্গে আমরাও মোবারকবাদ জানাচ্ছি এবং এই ঘোষণাকে স্বাগত জানাচ্ছি।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এতে করে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে যে কোনো অনিশ্চয়তা থাকলে তা কেটে যাবে।
তবে নির্বাচনকে সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষ করতে নির্বাচন কমিশনের ওপর ‘গুরু দায়িত্ব’ বর্তানোর কথা উল্লেখ করে জুবায়ের বলেন, “সব রাজনৈতিক দলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা এবং নির্বাচনকে অর্থবহ করার জন্য প্রশাসনিক ও অন্যান্য যে সব দায়িত্ব আছে, সেগুলো সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পালন করতে হবে। কোনো ধরনের দুর্বলতা যেন না থাকে, যাতে জাতির মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ বা উৎকণ্ঠা তৈরি হয়।”
তিনি আরও বলেন, “লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে এখন সর্বোচ্চ দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের ওপর। এখন থেকে তারা সেই ভূমিকাটি পালন করবেন—আমরা সেটাই প্রত্যাশা করছি। সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।”