মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার আউটশাহী গ্রামে পৈত্রিক বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করে ঘর ভেঙে দখল নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী দিনমজুর দুই ভাই এখন তাদের তিন শিশু সন্তান ও স্ত্রীদের নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তারা থানায় গিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সকাল ৯টার দিকে এই দখলের ঘটনা ঘটে।
আউটশাহী গ্রামের আখলেছ সৈয়াল ও মোখলেছ সৈয়াল দুই ভাই দীর্ঘদিন ধরে তাদের পৈত্রিক জমিতে ঘর তুলে বসবাস করে আসছিলেন। বর্তমানে তাদের বাবা মারা যাওয়ার পর পাশের চাষিরী গ্রামের আনোয়ার ভিস্তি নামের এক ব্যক্তি জমিটি নিজের বলে দাবি করছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, আনোয়ার ভিস্তি তাদের বাবা ও চাচা আরশেদ আলী সৈয়ালের কাছ থেকে জমিটি কিনেছেন দাবি করে একটি দলিল দেখান। ভুক্তভোগীরা ওই দলিলটিকে জাল দলিল আখ্যা দিয়ে আদালতে মামলা করেন। মামলা করার পরই আনোয়ার ভিস্তি জোর করে জমি দখলে নিয়ে ঘরবাড়ি লুটপাট করে নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ তাদের।
ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়ায় আখলেছ ও মোখলেছ সৈয়াল তাদের ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে গন্তব্যহীনভাবে রাস্তায় ঘুরছেন। মোখলেছ সৈয়াল জানান, “আনোয়ার সন্ত্রাসী নিয়ে এসে আমাদের ঘরের ভেতরে থাকা জিনিসপত্র সব লুটপাট করে নিয়ে গেছে। যে সমস্ত জিনিষ ছিল সব নিয়ে গেছে। রাতে ঘুমানোর মতো কাথা কম্বল কিছুই নেই। সব ওরা নিয়ে গেছে।”
আখলেছের ছেলে আবির অসহায়ভাবে জিজ্ঞেস করে, “আমরা রাতে কোথায় থাকব? থাকার মতো আমাদের কোনো আশ্রয় নেই।”
ভুক্তভোগী মোখলেছের স্ত্রী খাদিজা অভিযোগ করেন, সকালে ঘর ভাঙতে শুরু করলে তারা প্রথমে টঙ্গিবাড়ী থানায় যান। পরে তিনি ৯৯৯-এ ফোন দেন। ফোন দিলে তাঁকে বলা হয়, “আগে আপনারা হাসপাতাল যান, চিকিৎসা নিয়ে ডাক্তারি সর্টিফিকেট নেন, পরে আমরা বিষয়টি দেখব।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আনোয়ার ভিস্তি জমিটি নিজের বলে দাবি করেন, কিন্তু লোকজন নিয়ে জমি দখল করতে পারেন কিনা—এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
অন্যদিকে, টঙ্গিবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুল হক ডাব্লিউ গণমাধ্যমকে বলেন, “এ ঘটনা আমাকে কেউ অবহিত করেনি বা অভিযোগও দেয়নি। অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”