শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টা: তিন আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড

0
41

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার মামলায় প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ রাহুল দাউদের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, তার শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ এবং অপর আসামি ফয়সালের ঘনিষ্ঠ বান্ধবি মারিয়া আক্তার লিমার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত শুনানি শেষে এই রিমান্ড আদেশ দেন।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ আসামিদের আদালতে হাজির করে ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিন করে রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তিনজনের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে গত রোববার (১৪ ডিসেম্বর) শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে পল্টন থানায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

মামলায় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, হত্যাচেষ্টা, বিপজ্জনক অস্ত্র ব্যবহার করে স্বেচ্ছায় গুরুতর আঘাত এবং দুষ্কর্মে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়, প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ রাহুল দাউদসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা তৎকালীন সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তারা হত্যা, গুম ও খুনের মাধ্যমে গণঅভ্যুত্থান দমনের চেষ্টা করেছিল। তবে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গণমানুষের অংশগ্রহণে স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটে।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, জুলাই অভ্যুত্থানে আহত শরিফ ওসমান হাদি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে তিনি রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ গঠন করে এর মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে বিভিন্ন বক্তব্য দেন। এতে তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের বিরোধিতার মুখে পড়েন এবং একাধিকবার হত্যার হুমকি পান।

এজাহার অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই শরিফ ওসমান হাদি ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করেন। এর ধারাবাহিকতায় গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে মতিঝিল মসজিদে জুমার নামাজ শেষে প্রচারণা শেষ করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাওয়ার পথে পল্টন থানাধীন বক্স কালভার্ট রোডে তাকে বহনকারী অটোরিকশায় মোটরসাইকেলে থাকা দুষ্কৃতিকারীরা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়।

গুলিবিদ্ধ হয়ে শরিফ ওসমান হাদি মাথা ও ডান কানের নিচে গুরুতর আহত হন। তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, হেলমেট পরিহিত দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ঘটনার সময় একই অটোরিকশায় থাকা তার ভাই ওমর বিন হাদি এবং অন্যান্য সহকর্মীরা ফুটেজ দেখে প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ রাহুল দাউদকে শনাক্ত করেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করা, প্রার্থীদের মনোবল দুর্বল করা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। ঘটনার পর আসামিরা আত্মগোপনে চলে যায়।