ভোলায় আবারও জামায়াত–বিএনপি সংঘর্ষ, দোকান ভাঙচুর-আহত অন্তত ১০

0
30

ভোলার দৌলতখানের পর এবার সদর উপজেলাতেও জামায়াতে ইসলামী নেতাকর্মীদের ওপর বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে জামায়াতের ইউনিয়ন আমির ও সেক্রেটারিসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে জামায়াত সমর্থকদের চারটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগও করেছে দলটি।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) রাতে ভোলা সদর উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের বাজারে এ ঘটনা ঘটে। পরে ভোলা সদর উপজেলা জামায়াতে ইসলামী দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ তুলে ধরে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে বিএনপি সমর্থক রিয়াজ ও জামায়াত কর্মী মো. বসারের মধ্যে ফেসবুকে লেখালেখি নিয়ে প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং পরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের কয়েকজন নেতা দু’পক্ষকে আলাদা করে পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং রাতে এশার নামাজের পর বিষয়টি মীমাংসা করার আশ্বাস দেন।

রাতে জামায়াতের কয়েকজন নেতা-কর্মী ভেলুমিয়া বাজারে একটি দোকানে বসে চা পান করছিলেন। জামায়াতের অভিযোগ, এ সময় ভেলুমিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ইউনুস কমান্ডার ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই কুট্টির নেতৃত্বে বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে এসে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের অন্তত ১০ জন আহত হন।

তাদের অভিযোগ, একই সঙ্গে জামায়াত সমর্থক মমিনের জুতার দোকান, আক্কাস ও জাকিরের কাপড়ের দোকান এবং ইসলামী আন্দোলন সমর্থক আনোয়ার কাজীর কাপড়ের দোকানে ভাঙচুর চালানো হয়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে যৌথ বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সংবাদ সম্মেলনে ভোলা সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা কামাল হোসেন বলেন, সকালে মহান বিজয় দিবসের মিছিল থেকে ফেরার পথে বাকবিতণ্ডার জের ধরে বিএনপি নেতাকর্মীরা দিনে ও রাতে দুই দফা হামলা চালিয়েছে। সন্ধ্যার পরের হামলায় অন্তত ১০ জন জামায়াত কর্মী আহত হয়েছেন এবং ৪–৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। হামলার সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা “রাজাকার” স্লোগান দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে ভোলা সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. হেলাল উদ্দিন পাল্টা অভিযোগ তুলে বলেন, ভেলুমিয়া বাজারে বিএনপির একটি মিছিলের পেছন দিক থেকে জামায়াতের নেতাকর্মীরাই প্রথম হামলা চালিয়েছে। এতে বিএনপির দুই কর্মী—রিয়াজ ও মিলন—আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তার দাবি, কেন্দ্রীয় নির্দেশনার অংশ হিসেবে জামায়াত বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের ঘটনার সৃষ্টি করে তার দায় বিএনপির ওপর চাপিয়ে নির্বাচন বানচাল করতে চাইছে।

ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, “জামায়াত ও বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে উভয় পক্ষকে শান্তি–শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্দেশ দিয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”

তিনি জানান, এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি; অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর কয়েক ঘণ্টা আগে, একই দিন সকালে ভোলার দৌলতখান উপজেলা স্টেডিয়ামে মহান বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে অতিথিদের নির্ধারিত চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর স্থানীয় বিএনপি ও যুবদল নেতাকর্মীদের হামলার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় অন্তত ১৫ জন জামায়াত কর্মী আহত হওয়ার দাবি করা হলেও, দৌলতখান উপজেলা বিএনপি ও যুবদল এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।