নির্বাচনে পুলিশের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখতে পারেন: আইজিপি

0
56

আসন্ন নির্বাচনকে সুষ্ঠু, সুন্দর ও উৎসবমুখর করার মতো পূর্ণ সক্ষমতা বাংলাদেশ পুলিশের রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। তিনি প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে বলেছেন, পুলিশ তার সর্বশক্তি ও সর্বাত্মক প্রচেষ্টার মাধ্যমে এবারের নির্বাচন সফল ও শান্তিপূর্ণ করতে বদ্ধপরিকর। দেশবাসী ও নির্বাচন কমিশন পুলিশের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখতে পারেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষে রিটার্নিং অফিসার ও মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আইজিপি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে বাস্তব কারণেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হয়েছে। তবে বাহিনী এখন সেই অবস্থা থেকে সফলভাবে বেরিয়ে এসেছে। নির্বাচনের এই পর্যায়ে এসে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে পুলিশ বাহিনী বর্তমানে যথেষ্ট সক্ষমতা অর্জন করেছে। তবে সমাজের বিভিন্ন অংশে ছোটখাটো ইস্যুতে রাস্তা ও মহাসড়ক অবরোধ করে অস্থিরতা সৃষ্টির যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা বন্ধ করার সময় এসেছে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সব জায়গায় শৃঙ্খলা বা অর্ডার প্রতিষ্ঠিত করতে না পারলে নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহায়তা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসা করে আইজিপি বলেন, ইলেক্টরাল ইনকোয়ারি কমিটিকে সামারি ট্রায়াল বা সংক্ষিপ্ত বিচারের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে অপরাধের বিচার করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত সময়োপযোগী একটি সিদ্ধান্ত। এ ছাড়া ম্যাজিস্ট্রেটরা প্রয়োজনে পুলিশের পাশাপাশি যেকোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নিতে পারবেন—এমন প্রবিধান রাখায় তিনি কমিশনকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনের মাঠ পর্যায়ের রদবদল নিয়ে একটি স্পষ্ট নীতিমালা ও দিকনির্দেশনা চান আইজিপি। তিনি বলেন, এসপি বা তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের বদলির বিষয়ে কমিশনের নির্দেশনা থাকলেও কনস্টেবল বা সাব-ইন্সপেক্টরের মতো নিম্নপদে রদবদলের ক্ষেত্রে কমিশনের পূর্বানুমতি প্রয়োজন কি না, সে বিষয়ে একটি স্পষ্ট গাইডলাইন থাকা প্রয়োজন।

আলোচনা সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ছাড়াও নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, বেগম তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এবং ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। সভায় মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা নির্বাচনের প্রস্তুতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তাঁদের মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন। ইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একটি অংশগ্রহণমূলক ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রশাসন ও পুলিশকে সমন্বিতভাবে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় সব নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।