বিএনপিতে যোগ দিলেন এলডিপি মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ

0
49

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. রেদোয়ান আহমেদ আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দিয়েছেন। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উপস্থিতিতে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ড. রেদোয়ান আহমেদ বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে কুমিল্লা-৭ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

যোগদান অনুষ্ঠানে ড. রেদোয়ান আহমেদ জানান, এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের সাথে নির্বাচনী আসন বণ্টন নিয়ে মতবিরোধের জেরে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা বিএনপির সাথে দীর্ঘদিন যুগপৎ আন্দোলনে ছিলাম। বিএনপি শরিকদের আসন বণ্টনের ক্ষেত্রে যে ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আমি তার সাথে একমত। কিন্তু আমার দলের চেয়ারম্যান অলি আহমেদ এই সিদ্ধান্তের সাথে একমত হতে পারছেন না। ড. রেদোয়ান দাবি করেন, এলডিপির সিংহভাগ স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সারাদেশের নেতাকর্মীরা তাঁর সিদ্ধান্তের সাথে একমত পোষণ করেছেন এবং তাঁরা বিএনপির প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করবেন।

নিজের রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরে রেদোয়ান আহমেদ বলেন, আমি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিএনপিতে ছিলাম, তাই আজকের এই যোগদানকে আমি ‘ঘরে ফেরা’ হিসেবে দেখছি। তিনি ইতিমধ্যে এলডিপি চেয়ারম্যানের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন বলেও নিশ্চিত করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, অলি আহমেদেরও শেষ পর্যন্ত শুভ বুদ্ধির উদয় হবে এবং তিনি বিএনপির সাথে নির্বাচনী সমঝোতায় একমত হবেন। তবে অলি আহমেদ নির্বাচনে আসুন বা না আসুন, তিনি বিএনপির সাথেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ড. রেদোয়ান আহমেদকে স্বাগত জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তাঁকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। তাঁর এই যোগদান ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে আসার মতো এবং এতে বিএনপি আরও শক্তিশালী হবে। ঘরের পুরনো সদস্যকে ফিরে পেয়ে বিএনপি পরিবার আনন্দিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এই যোগদান অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ঠিক আগে এলডিপি মহাসচিবের বিএনপিতে ফেরা কুমিল্লা অঞ্চলের নির্বাচনী সমীকরণে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।