গাজা যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা করতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সোমবার ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো রিসোর্টে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
নেতানিয়াহু চলতি মাসের শুরুতেই জানিয়েছিলেন, ট্রাম্প তাকে আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। গাজায় যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন ও আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে ইসরায়েলের অনীহার মধ্যেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নে ইসরায়েলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ রয়েছে।
গত ২২ ডিসেম্বর নেতানিয়াহু বলেন, বৈঠকে গাজা যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপের পাশাপাশি ইরান ও লেবানন পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হবে। গাজা, ইরান ও লেবানন—এই তিন ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি হয়েছে। তবে ইসরায়েল আশঙ্কা করছে, যুদ্ধে দুর্বল হয়ে পড়া প্রতিপক্ষরা আবার সংগঠিত হতে পারে।
গত অক্টোবরে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী সংগঠন হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার আওতায় এই চুক্তিতে ধাপে ধাপে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং একটি শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে।
চুক্তির প্রথম ধাপে আংশিক সেনা প্রত্যাহার, গাজায় ত্রাণ সরবরাহ বৃদ্ধি এবং ফিলিস্তিনি বন্দিদের সঙ্গে হামাসের হাতে থাকা জিম্মিদের বিনিময় সম্পন্ন হয়েছে। নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বৈঠকে তিনি দাবি জানাবেন—হামাস যেন প্রথম ধাপ শেষ করে ইসরায়েলি জিম্মিদের মরদেহ ফিরিয়ে দেয়। এরপরই পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হওয়ার কথা বলবেন তিনি।
চলতি বছরে এটি হবে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর পঞ্চম বৈঠক। ইসরায়েলের প্রভাবশালী দৈনিক ইয়েদিওত আহরোনোথ জানায়, বৈঠকে গাজা ছাড়াও ইরান, লেবানন এবং ইসরায়েল–সিরিয়া সম্ভাব্য নিরাপত্তা চুক্তি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
এই বৈঠককে গাজায় যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপে যাওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ সম্পন্ন করে দীর্ঘমেয়াদি শাসন, স্থিতিশীলতা ও পুনর্গঠনের পথে যাওয়া ট্রাম্প প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার।
তবে এসব আলোচনার মধ্যেও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গাজায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ এক হামলায় অন্তত ছয়জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।