পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য ও অনলাইন তৎপরতার কারণে আটজন সাংবাদিক ও মন্তব্যকারীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। ইমরান খানের পক্ষে প্রচারমূলক কার্যক্রম ও বক্তব্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাস-সংক্রান্ত অভিযোগে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
মডার্ন ডিপ্লোমেসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব মামলার সূত্রপাত ২০২৩ সালের ৯ মে সংঘটিত সহিংস বিক্ষোভ থেকে। ওইদিন ইমরান খান গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার সমর্থকেরা পাকিস্তানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়।
এই ঘটনার পর সরকার ইমরান খানের দল ও ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড় অভিযান শুরু করে। উসকানি, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা কিংবা এসব ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন প্রয়োগ করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে সামরিক আদালতেও এসব মামলার বিচার পরিচালিত হয়।
এই রায় পাকিস্তানে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সমালোচকদের মতে, সাংবাদিক ও অনলাইন মন্তব্যকারীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন প্রয়োগ রাজনৈতিক বক্তব্য ও ভিন্নমতকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, এই রায় রাজনৈতিক মামলায় নিরাপত্তা আদালতের ভূমিকা আরও বিস্তৃত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। একই সঙ্গে এটি ২০২৩ সালের মে মাসের অস্থিরতার পর পাকিস্তানে নাগরিক স্বাধীনতা ক্রমাগত সংকুচিত হওয়ার প্রতিফলন হিসেবেও দেখা হচ্ছে।