হত্যা মামলায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর তালুকদারের তিন দিনের রিমান্ড

0
43

রাজধানীর শাহবাগ থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর তালুকদারকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (৫ জানুয়ারি) পুলিশের করা রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এ আদেশ দেন। পুলিশ আসামির জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলেও আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, শাহবাগ থানার মামলা নম্বর-২৩, যা দণ্ডবিধির ৩০২/১০৯/১১৪/৩৪ ধারায় দায়ের করা হয়েছে, সে মামলাতেই দীপঙ্কর তালুকদারের রিমান্ড আবেদন করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মাইনুল ইসলাম খান পুলক আবেদনে উল্লেখ করেন, দীপঙ্কর তালুকদার (৭২) পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য এবং রাঙামাটি পার্বত্য জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। তার পিতা মৃত হেমন্ত প্রসাদ তালুকদার এবং তার বর্তমান ঠিকানা ধানমন্ডির সোবহানবাগ এলাকার নিউ বুরি প্লেসের নাভানা বিল্ডিংয়ের ৪/১/এ নম্বর ফ্ল্যাট।

পুলিশ জানায়, দীপঙ্কর তালুকদার বর্তমানে পল্টন থানার মামলা নম্বর-২৫ (তারিখ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪)-এ বিস্ফোরক দ্রব্য আইন, ১৯০৮-এর ৩/৬ ধারাসহ দণ্ডবিধির ৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩০২/২০১/৩৮৪/১১৪/১০৯/৩৪ ধারায় গ্রেফতার হয়ে জেলহাজতে আটক রয়েছেন। এর আগে আদালতের অনুমতিক্রমে তাকে এ মামলায় শোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়।

মামলার বাদী রুজিনা আক্তার এজাহারে উল্লেখ করেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় শাহবাগ থানাধীন এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলছিল। ওই সময় পুলিশের সঙ্গে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা একত্র হয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই একাধিক ব্যক্তি নিহত হন এবং বহু মানুষ গুরুতর আহত হন।

এজাহার অনুযায়ী, নিহত মো. মনির একাধিক গুলিতে আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের সংকট ও অতিরিক্ত চাপের কারণে পোস্টমর্টেম করা সম্ভব হয়নি বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে ঢাকায় দাফনে জটিলতা দেখা দিলে নিহতের স্বজনরা মরদেহ ভোলা জেলার শম্ভুপুর খাসেরহাট গ্রামের আলতাফ আলী দফাদার বাড়িতে দাফন করেন।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক ব্যক্তি আন্দোলন দমনে কঠোর নির্দেশনা দেন। সাবেক সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন, হাজী সেলিম, সোলায়মান সেলিমসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা পুলিশের সঙ্গে যোগসাজশে শাহবাগ, লালবাগ, বংশাল ও কোতোয়ালীসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালান। এতে মো. মনিরসহ বহু মানুষ নিহত হন।

তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে জানান, প্রাথমিক তদন্তে দীপঙ্কর তালুকদারের সঙ্গে ঘটনার সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত পলাতক আসামিদের শনাক্ত, অস্ত্র সরবরাহ ও অর্থায়নের উৎস উদ্ঘাটন এবং মামলার মূল রহস্য উন্মোচনের জন্য তাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ জরুরি।