হাদি হত্যা: প্রধান আসামি ফয়সালের ৫৩ ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ

0
33

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের ৫৩টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সিআইডি পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, জব্দকৃত এসব ব্যাংক হিসাবে মোট ৬৫ লাখ ৫০ হাজার ২৪৬ টাকা গচ্ছিত রয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডি পুলিশের এসআই আব্দুল লতিফ জানান, ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং এবং হত্যায় অর্থায়নের অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মাসুদ ও তার সহযোগীরা খুন, সন্ত্রাস এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রমে অর্থ জোগানসহ সংঘবদ্ধ অপরাধে জড়িত। তাদের ব্যাংক হিসাব বিশ্লেষণে সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্ত চলাকালীন এসব অর্থ যাতে বেহাত বা স্থানান্তর না হতে পারে, সেজন্য মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ১৪ ও ১৭(২) ধারা অনুযায়ী হিসাবগুলো অবরুদ্ধ করা হয়েছে।

এদিকে হাদি হত্যা মামলায় মঙ্গলবার ১৭ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অভিযোগপত্রে ফয়সাল করিম মাসুদ ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পিকে অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত করা হয়েছে। ডিবি পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, সাবেক কাউন্সিলর বাপ্পির পরিকল্পনাতেই হাদিকে হত্যা করা হয়। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

মামলার ১৭ আসামির মধ্যে বর্তমানে ১১ জন গ্রেপ্তার রয়েছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মাসুদের বাবা-মা, স্ত্রী, শ্যালক, বান্ধবী এবং পালাতে সহায়তাকারী কয়েকজন ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত আছেন। তবে মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ, সাবেক কাউন্সিলর বাপ্পি, মোটরসাইকেল চালক আলমগীর এবং মাসুদের বোন ও ভগ্নিপতিসহ ছয়জন এখনো পলাতক। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পরপরই মাসুদ ভারতে পালিয়ে যান এবং বর্তমানে তিনি মেঘালয়ে অবস্থান করছেন বলে তথ্য রয়েছে।

উল্লেখ্য, জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া শরীফ ওসমান বিন হাদি গত ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগের সময় হামলার শিকার হন। চলন্ত রিকশায় থাকা অবস্থায় তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে এবং পরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনায় হাদির হত্যাচেষ্টা মামলাটি পরবর্তীতে হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়।