এখন পর্যন্ত জাতীয় নির্বাচনের পরিস্থিতি মোটামুটি ভালোই মনে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে তাঁর মতে, নির্বাচনী প্রচারণা শুরু না হলে প্রকৃত অবস্থা বোঝা সম্ভব নয়।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ি এলাকার নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, আপাতত সবাই নিজ নিজ সাংগঠনিক বিষয় ও মনোনয়ন প্রক্রিয়া গুছিয়ে নিচ্ছে। নির্বাচনের বাস্তব চিত্র স্পষ্ট হবে তখনই, যখন আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হবে।
দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা, হত্যাকাণ্ড এবং জুলাই অভ্যুত্থানে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এসব বিষয়ে বিএনপি অবগত এবং গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তাঁর দাবি, এখন পর্যন্ত অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া সরকারের ব্যর্থতারই প্রমাণ। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি বলে তিনি মনে করেন। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, নির্বাচন চলাকালে পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং আইনশৃঙ্খলা আরও ভালো অবস্থায় আসবে।
ভারতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অবস্থানের সঙ্গে একমত জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ক্রিকেটের সঙ্গে আন্তর্জাতিক রাজনীতির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে দেশের সম্মান জড়িত। তাঁর মতে, একজন বাংলাদেশি ক্রিকেটারকে অপমান করা মানে পুরো দেশকেই অপমান করা। এ বিষয়ে বিসিবির সিদ্ধান্তকে সমর্থন করলেও তিনি মনে করেন, ছোটখাটো বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করাই উত্তম।
বিএনপিকে একটি পরীক্ষিত রাজনৈতিক দল উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণের কাছে যাওয়ার মতো শক্ত ভিত্তি বিএনপির রয়েছে। একদলীয় শাসন থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রে রূপান্তর, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বিএনপির হাত দিয়েই হয়েছে। বর্তমানে ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচির মধ্যেও এসব সংস্কারের অঙ্গীকার রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। সংস্কার কমিশনের মাধ্যমে যে সংস্কারগুলো গৃহীত হয়েছে, তার বেশিরভাগই বিএনপির প্রস্তাবনায় অন্তর্ভুক্ত ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ জানিয়ে তিনি বলেন, তিস্তা, পদ্মাসহ সব অভিন্ন নদীর বিষয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে বাংলাদেশের ন্যায্য দাবি আদায় করা হবে।
ফ্যাসিস্টদের ভয় করেন না উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, গণভোটের প্রচার বিএনপির দায়িত্ব নয়, এটি জনগণের সিদ্ধান্তের বিষয়। জনগণই ঠিক করবে তারা ‘হ্যাঁ’ বলবে নাকি ‘না’। তাঁর ভাষায়, যারা সবসময় ফ্যাসিস্টদের ভয় দেখায়, তারা নিজেরা কিছু না করে দূরে বসে কথা বলে। বিএনপি ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে লড়তেও জানে এবং প্রয়োজনে সেই লড়াইয়ের মূল্য দিতেও প্রস্তুত।
এ সময় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ জেলা, উপজেলা ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।