মাদারীপুরে জমি ও আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগে ১৩ বসতঘর পুড়ে ছাই; গ্রেপ্তার ২

0
39

মাদারীপুরে জমিজমা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত জেলার ডাসার উপজেলার খাতিয়াল গ্রামে দফায় দফায় এ ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অন্তত ১৩টি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, খাতিয়াল গ্রামে আব্বাস চৌধুরী ও আনোয়ার জমাদারের মধ্যে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয় এবং হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরদিন বুধবার সকালে আনোয়ারের নেতৃত্বাধীন পক্ষ আব্বাসের ওপর হামলা চালিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে স্থানীয়রা আব্বাসকে উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠান।

ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে উত্তেজিত হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আব্বাসের লোকজন আনোয়ার পক্ষের বসতঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে অন্তত ১৩টি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আগুন ও হামলা ঠেকাতে গেলে উভয় পক্ষের আরও কয়েকজন আহত হন।

ক্ষতিগ্রস্ত সিরাজ জমাদ্দার বলেন, তার ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে এবং জমাদ্দার বংশের ১৩টি ঘরে “কিছুই বাকি নেই।” তিনি হামলার বিচার দাবি করেন।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অবস) মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, জমি ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের একপর্যায়ে একপক্ষের লোকজন অপর পক্ষের ওপর হামলা চালায়। পরে পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, ইউএনওসহ সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলেও জানান তিনি। পুলিশ আরও জানায়, এ ঘটনায় উভয় পক্ষ থেকে দুটি মামলা নেওয়া হয়েছে এবং দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।