বর্তমান লড়াই সেই সব শক্তি ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যারা মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চায়: মির্জা ফখরুল

0
41

সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত বিএনপির প্রথম নির্বাচনি জনসভায় দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেছেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপস্থিতিতে তিনি দেশের মানুষকে বিভ্রান্তিকারীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন মির্জা ফখরুল তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান লড়াই সেই সব শক্তি ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যারা মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চায়। তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, তারেক রহমানের সুযোগ্য নেতৃত্বে এই লড়াইয়ে জয়লাভ করে তাঁকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করার মাধ্যমেই দেশে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। তাঁর মতে, তারেক রহমানের এই সফর কেবল একটি নির্বাচনি প্রচার নয়, বরং এটি বাংলাদেশকে নতুনভাবে সাজানোর এক ঐতিহাসিক যাত্রা।

বিভ্রান্তি ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি বিএনপিকে একটি উদারপন্থী গণতান্ত্রিক দল হিসেবে অভিহিত করে মহাসচিব বলেন, দল সর্বদা সামনের দিকে তাকায়। তিনি নাম উল্লেখ না করে একটি রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করে বলেন, তারা বিএনপির নেতাদের এবং বিশেষ করে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা রটনা ও কুৎসা ছড়াচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেনি এবং এখন নতুন করে দেশ গড়ার কথা বলছে, জনগণ কি তাদের ভোট দেবে? এসব শক্তির বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

গণতন্ত্রের দীর্ঘ সংগ্রাম ও বীরদের স্মরণ বিগত ১৫ বছরের আন্দোলনের প্রেক্ষাপট টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, এ দেশের মানুষ গণতন্ত্রের জন্য গুম, খুন ও জেল-জুলুম সহ্য করলেও কখনো মাথানত করেনি। তিনি সিলেটের পুণ্যভূমি থেকে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এমএজি ওসমানী, প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ সাইফুর রহমান এবং গুম হওয়া নেতা এম ইলিয়াস আলীর অবদানের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। পাশাপাশি দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ লড়াই ও ত্যাগের কথা উল্লেখ করে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি।

বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের আদর্শে অগ্রযাত্রা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দর্শনের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ এবং উন্নয়নের যে পতাকা জিয়াউর রহমান তুলেছিলেন, তা এখন তারেক রহমানের হাতে। তারেক রহমানের পরিকল্পনা ও আধুনিক চিন্তাধারার মাধ্যমেই আগামীর গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।