লা লিগায় রোববারের ম্যাচে বার্সেলোনার তরুণ ফরোয়ার্ড লামিনে ইয়ামালের নৈপুণ্যে মুগ্ধ হয়েছেন রিয়াল ওভিয়েডোর কোচ গুইলারমো আলমাদা। ম্যাচ শেষে তিনি ইয়ামালকে ‘অন্য গ্যালাক্সির খেলোয়াড়’ বলে আখ্যা দেন। স্পটিফাই ক্যাম্প ন্যুতে বৃষ্টিবিঘ্নিত এই ম্যাচে বার্সেলোনা ৩-০ গোলে জয় পেয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে ফিরে আসে।
১৮ বছর বয়সী ইয়ামাল বক্সের ভেতর থেকে চোখধাঁধানো এক অ্যাক্রোবেটিক শটে দলের তৃতীয় গোলটি করেন, যা ছিল চলতি মৌসুমে তার ১১তম গোল। এর আগে দানি ওলমো ও রাফিনহার গোলে দুই গোলের লিড নেয় কাতালানরা। প্রচণ্ড বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে ম্যাচের গতি মাঝেমধ্যে কমে গেলেও ইয়ামালের গোলটি দর্শকদের আলাদা করে আনন্দ দেয়।
ইয়ামালের গোল নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় ওভিয়েডো কোচ আলমাদা বলেন, এই তরুণ ফুটবলার গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ফল এনে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। কম বয়স হলেও সে ইতোমধ্যেই ম্যাচ নির্ধারণ করে দেওয়ার মতো তারকায় পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তবে বার্সা কোচ হ্যান্সি ফ্লিকের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল প্রথম গোলের আগের মুহূর্তটি। ইয়ামালের তীব্র প্রেসিংয়ের কারণে বল পুনরুদ্ধার হয় এবং সেখান থেকেই ওলমো গোল করার সুযোগ পান। কাঁধের চোট থেকে ফিরে এই মাসে এটি ওলমোর তৃতীয় গোল।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ফ্লিক বলেন, প্রথম গোলের আগে ইয়ামালের কাজটাই তার কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দল যেভাবে প্রেসিং করেছে এবং গোলের সুযোগ তৈরি করেছে, সেটিই তিন পয়েন্ট পাওয়ার মূল চাবিকাঠি ছিল বলে জানান তিনি। যদিও দর্শকদের কাছে ইয়ামালের তৃতীয় গোলটি বেশি আকর্ষণীয়, তবুও দলের খেলায় তার অবদানকেই বেশি মূল্য দেন ফ্লিক।
ফ্লিক আরও স্বীকার করেন, টানা ম্যাচ, ভ্রমণ ও বিশ্রামের অভাবের কারণে সব সময় সেরা ফর্ম ধরে রাখা কঠিন। তার মতে, ওভিয়েডোর হারানোর কিছু ছিল না, তারা সাহসী ফুটবল খেলেছে এবং প্রথমার্ধে বার্সা নিজেদের সেরা ছন্দে ছিল না। তবে দ্বিতীয়ার্ধে দল অনেক ভালো খেলেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এই জয়ের পর বার্সেলোনা এবার চ্যাম্পিয়নস লিগের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। বুধবার ক্যাম্প ন্যুতে কোপেনহেগেনের বিপক্ষে ম্যাচ খেলবে তারা, যেখানে জয় পেলে সরাসরি শেষ ষোলোতে জায়গা করে নেওয়ার বড় সুযোগ তৈরি হবে।