বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, স্বৈরাচারের পতন হয়েছে, এখন সময় দেশ গড়ার। তিনি বলেন, “৭১ সালে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি, ২০২৪ সালে সেই স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছি। এখন আমাদের সেই স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তুলতে হবে।”
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার পাইকপাড়ায় বিসিক শিল্প পার্কে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তারেক রহমান বলেন, বিগত ১৬ বছরে যারা ‘তলে তলে’ স্বৈরাচারের সঙ্গে মিশে ছিল, সেই ‘গুপ্ত’ ষড়যন্ত্রকারী চক্র থেকে দেশবাসীকে সজাগ থাকতে হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যারা দীর্ঘ সময় স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে কাজ করেছে, তারা এখন ভিন্ন বেশে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। এদের রুখে দিতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, অনেকেই মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে এবং বিভ্রান্তিমূলক কথা ছড়ানোদের তিনি ‘গুপ্ত’ বলে উল্লেখ করেন। তার মতে, এই চক্রকে রুখে দিতে এবং আন্দোলনে আত্মত্যাগকারীদের অধিকার যেন খর্ব না হয়—সে জন্য সতর্ক থাকতে হবে।
জনসভায় তিনি ভোট ডাকাতির প্রতিবাদ করতে গিয়ে দৃষ্টিশক্তি হারানো ‘মেরি’ এবং গত দেড় দশকে গুম-খুনের শিকার পরিবারগুলোর ত্যাগের কথাও উল্লেখ করেন। পাশাপাশি বিএনপির ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে গৃহিণীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’, কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ সব ধর্মের ধর্মগুরুদের জন্য মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া সিরাজগঞ্জ ও পাবনা অঞ্চলকে কেন্দ্র করে উত্তরবঙ্গজুড়ে কৃষিভিত্তিক শিল্প পার্ক গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা বিএনপির আছে এবং তারা শান্তিতে বিশ্বাস করে সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়তে চায়। বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, “আসুন সবাই মিলে শপথ নিই—করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।”