‘আমার ভোট আমি দেব, তোমারটাও আমি দেব’—এই দিন আর ফিরে আসবে না

0
26
‘আমার ভোট আমি দেব, তোমারটাও আমি দেব’—এই দিন আর ফিরে আসবে না

পুরোনো রাজনীতির স্লোগান ও ভোট ডাকাতির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “আমার ভোট আমি দেব, তোমারটাও আমি দেব; এই ধারণার অবসান ঘটেছে। এই দিন আর ফিরে আসবে না।”

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার কটিয়াদী সরকারি কলেজ মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যজোট আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “চব্বিশের যুবসমাজ ঘুমিয়ে নেই। তারা জেগে আছে। তারা শুধু নিজের ভোট নয়, সবার ভোটের পাহারাদারি করবে… এখন আর কোনো দুর্বৃত্ত কারও ভোটে হাত দিতে পারবে না।”

প্রশাসনের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে জাতি তাদের পাশে থাকবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, তারা কারও কাছে বিশেষ আনুকূল্য চান না, তবে কেউ অধিকার হরণ করতে এলে তারা ছাড় দেবেন না।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তার বক্তব্যে ‘অধিকার’ বলতে শুধু জামায়াতের অধিকার নয়, বরং দেশের ১৮ কোটি মানুষের—মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সবার অধিকার বোঝানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, তারা দলীয় সরকার নয়—জনগণের সরকার চান, এবং “জামায়াতের বিজয়” নয়—“১৮ কোটি মানুষের বিজয়” চান।

পরিবারতন্ত্র ও গোষ্ঠীকেন্দ্রিক রাজনীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, যারা পুরোনো অন্ধকার রাজনীতির পথে হাঁটতে চায় তারা সেই পথেই থাকুক, জামায়াত ও জনগণ “আলোকিত পথেই” এগিয়ে যাবে। কিশোরগঞ্জের ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রশংসা করে তিনি বলেন, এ জেলার মানুষ ধর্মপ্রাণ হলেও অন্য ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে সৌহার্দ বজায় রাখে—এটাই ধর্মের প্রকৃত সৌন্দর্য। তার ভাষায়, বাংলাদেশকে সব ধর্মের মানুষের “ফুলের বাগান” হিসেবে গড়ে তুলতে চান তারা।

নারী ও তরুণদের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে ছেলে-মেয়েরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছে, তবে দেশে এখনও নিরাপত্তা ও ন্যায্যতার ঘাটতি রয়েছে। তিনি বলেন, তারা “শুধু উন্নয়ন নয়, আগে নিরাপত্তা” চান এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজ পাওয়ার নিশ্চয়তা চান। বেকার ভাতার বদলে কর্মসংস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুবকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দেশের “কারিগর” হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

হাওরাঞ্চল প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের বড় একটি অংশ হাওরাঞ্চল, যা খাদ্য ও প্রোটিনের বড় যোগান দেয়। তবে নদী-বিল ধ্বংসের কারণে এই অঞ্চল সংকটে—“নদীর জীবন ফিরলে বাংলাদেশের জীবন ফিরবে”—এ মন্তব্যও করেন তিনি।

এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, তার নামে অশালীন বার্তা ছড়ানো হয়েছে এবং সাইবার টিম তা শনাক্ত করেছে। বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

শেষদিকে তিনি বলেন, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ধৈর্য ধরুন,” এবং সুষ্ঠু ভোটে যিনি নির্বাচিত হবেন তাকে অভিনন্দন জানাবেন বলেও উল্লেখ করেন। তবে “চোরাই পথে” যেন আর কোনো নির্বাচন না হয়—এ অবস্থানও জানান তিনি।

জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলীর সভাপতিত্বে জনসভায় জামায়াতে নতুন যোগ দেওয়া মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জনসহ বিভিন্ন দলের নেতারা বক্তব্য দেন। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, জেলার ১৩টি উপজেলা থেকে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা জনসভায় অংশ নেন। জনসভা শেষে কিশোরগঞ্জের কয়েকটি আসনের জামায়াত প্রার্থীদের হাতে দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা এবং কিশোরগঞ্জ-৬ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীর হাতে রিকশা প্রতীক তুলে দেন ডা. শফিকুর রহমান। কিশোরগঞ্জ-১ আসনের বিষয়টি উন্মুক্ত রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়।