রায়পুরায় গোষ্ঠীগত সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী নিহত

0
40
রায়পুরায় গোষ্ঠীগত সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী নিহত

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের গোষ্ঠীগত বিরোধ ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুস্তাকিম মিয়া (১৪)। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের চরাঞ্চল সায়দাবাদ এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত মুস্তাকিম সৌদি আরবপ্রবাসী মাসুদ রানার ছেলে এবং স্থানীয় একটি স্কুলের নিয়মিত শিক্ষার্থী। ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সায়দাবাদ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হানিফ মাস্টার ও এরশাদ মিয়ার নেতৃত্বাধীন দুটি প্রভাবশালী পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এর আগেও একাধিক সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত আটজন নিহত হন এবং বহু বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

বুধবার সকালে এরশাদ মিয়ার অনুসারীরা দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হানিফ মাস্টারের অনুসারীদের বাড়িতে হামলা চালালে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে এরশাদ গ্রুপের সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ মিয়ার ভাতিজা মাসুম ওরফে ‘চায়না’র ছোড়া গুলিতে মুস্তাকিম গুরুতর আহত হয়। গুলি তার শরীর ভেদ করে বেরিয়ে যায়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রফিকুল ইসলাম (৩৭), সোহান (২৬) ও রোজিনা বেগম (৩৫) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

নিহতের মা শাহানা বেগম বলেন, তারা কোনো পক্ষের সঙ্গে জড়িত নন এবং বাড়ির আঙিনায় দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তার ছেলের গায়ে গুলি লাগে। তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিমল চন্দ্র ধর জানান, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মুস্তাকিমকে হাসপাতালে আনা হলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মুজিবুর রহমান বলেন, ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।