বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তিসহ মোট এক হাজার অতিথি উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যদের নামে গেজেট ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। আইন অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের পর তিন দিনের মধ্যে সংসদ সদস্য হিসেবে তাদের শপথ গ্রহণ সম্পন্ন করতে হয়। তিনি জানান, এই সময় গণনা কর্মদিবস অনুযায়ী ধরা হবে এবং আগামী ১৭ তারিখের মধ্যে শপথ গ্রহণ সম্পন্ন হতে পারে।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দল তাদের নিজস্ব সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে নেতা নির্বাচন করবে। সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের নেতা নির্বাচিত হলে তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে তা আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করবেন। এরপর রাষ্ট্রপতি সংবিধান অনুযায়ী তাকে প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগ দেবেন।
ড. শেখ আব্দুর রশীদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের পর সুবিধাজনক একটি সময় নির্ধারণ করে মন্ত্রিপরিষদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। আমরা আশা করছি তিন দিন বা সর্বোচ্চ চার দিনের মধ্যেই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। যদি কোনো কারণে সময় কিছুটা পরিবর্তন হয়, সে ক্ষেত্রেও বিকল্প প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
সংসদ সদস্যদের শপথ কে পাঠ করাবেন— এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বিষয়টি সংসদ সচিবালয়ের এখতিয়ারভুক্ত। তিনি জানান, এ নিয়ে বিভিন্ন বিকল্প রয়েছে। স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার শপথ পাঠ করাতে পারেন, অথবা তারা কাউকে মনোনীত করতে পারেন। যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে সরকার থেকে অন্য কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতি বা প্রধান নির্বাচন কমিশনারও শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করতে পারেন বা শপথ পাঠ করাতে পারেন।
তবে তিনি উল্লেখ করেন, এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত এখনো জানানো হয়নি এবং ইনফরমালভাবে যা জানা গেছে, তা প্রকাশ করতে চান না।
মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পাঠ কে করাবেন— এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের শপথ পাঠ করান। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান রাষ্ট্রপতির মাধ্যমেই সম্পন্ন হবে।
বঙ্গভবনে আয়োজিত হতে যাওয়া এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে প্রশাসনিক ও প্রটোকল সংক্রান্ত প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরুর এই আয়োজন ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে।