স্যালফোর্ডকে হারিয়েও সন্তুষ্ট নন গার্দিওলা, এফএ কাপে সিটির জয়; লিভারপুলের দাপুটে জয়ে শেষ ১৬

0
46
স্যালফোর্ডকে হারিয়েও সন্তুষ্ট নন গার্দিওলা, এফএ কাপে সিটির জয়; লিভারপুলের দাপুটে জয়ে শেষ ১৬

লিগের দ্বিতীয় স্তরের ক্লাব স্যালফোর্ড সিটিকে গত মৌসুমে বড় ব্যবধানে হারিয়েছিল ম্যানচেস্টার সিটি। শনিবার এফএ কাপে সেই প্রতিপক্ষের বিপক্ষেও ২-০ গোলের সহজ জয় তুলে নিয়ে পঞ্চম রাউন্ডে উঠেছে সিটিজেনরা। তবে জিতেও দলের পারফরম্যান্সে খুশি নন কোচ পেপ গার্দিওলা। একই দিনে প্রিমিয়ার লিগের আরেক শক্তিশালী দল লিভারপুল ৩-০ গোলে ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ আলবিয়নকে হারিয়ে পরের রাউন্ড নিশ্চিত করেছে।

ম্যাচের শুরুতেই ম্যানসিটির এগিয়ে যেতে লাগে আত্মঘাতী গোলের সহায়তা। বক্সের বাঁ দিক থেকে রায়ান আইত নৌরির নিচু ক্রস সামাল দিতে গিয়ে আলফি ডোরিংটন বল নিজের জালেই পাঠান। ষষ্ঠ মিনিটে গোল হজম করে স্যালফোর্ডের সামনে গত মৌসুমের দুঃস্বপ্ন ফিরে আসার ইঙ্গিত মিললেও, এরপর দীর্ঘ সময় সিটি আক্রমণ করেও প্রত্যাশিত আধিপত্য দেখাতে পারেনি।

উল্টো ম্যাচের ২২ মিনিটে রাইট ব্যাক হিসেবে নামা ম্যাক্স আলেইন ইনজুরিতে পড়ে মাঠ ছাড়লে সিটি ধাক্কা খায়। ওমর মারমৌশ গোল করলেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়। প্রথমার্ধের শেষ দিকে স্যালফোর্ড কয়েকবার পাল্টা আক্রমণে বিপদ তৈরি করে। উডবার্নের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট যায়, একটি প্রচেষ্টা ঠেকান সিটি গোলকিপার জেমস ট্র্যাফোর্ড এবং ব্র্যান্ডন কুপারের শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যায়।

দ্বিতীয়ার্ধেও সিটি বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করলেও স্যালফোর্ড রক্ষণ সামলে ম্যাচে টিকে থাকে। কেলি এনমাইয়ের একটি নিচু ক্রস জন স্টোন্স ক্লিয়ার না করলে অতিথিরা সমতায় ফিরতে পারত বলেও ম্যাচ বর্ণনায় উঠে আসে। পরে গার্দিওলা পরিবর্তন এনে আক্রমণভাগ সাজান, আর ম্যাচ শেষের ৯ মিনিট আগে গুয়েহি ক্লাবের জার্সিতে নিজের প্রথম গোল করে স্যালফোর্ডের প্রত্যাবর্তনের আশা শেষ করে দেন। ফ্রি কিক থেকে বল দেওয়া-নেওয়ার পর রায়ান শেরকির শট ফিরিয়ে দেন স্যালফোর্ড কিপার ম্যাট ইয়াং, তবে ফিরতি বল পেয়ে গুয়েহি জালে পাঠান। এরপর সেমেনিয়োর একটি শট পোস্টে লাগলেও ব্যবধান আর বাড়েনি।

ম্যাচ শেষে গার্দিওলা স্পষ্ট ভাষায় হতাশা জানান। তিনি বলেন, “না, আমি সন্তুষ্ট নই। প্রতিপক্ষ কোথায় জায়গা ছেড়েছিল, সেটা আমরা পড়তে পারিনি… আর আমরা আজ সেটা বুঝতেই পারিনি।” তিনি আরও বলেন, “এই কারণেই খেলাটা এত বিরক্তিকর ছিল। একমাত্র ভালো খবর হলো আমরা পরের রাউন্ডে যেতে পেরেছি। এর বাইরে আর কিছুই বলার নেই।”

অন্যদিকে লিভারপুলের জয়ে আলোচনায় ছিলেন কুর্টিস জোন্স। এক বছরেরও বেশি সময় পর গোল পেয়ে নিজের দীর্ঘ গোলখরা কাটান তিনি এবং প্রথমার্ধের শেষ দিকে দলকে এগিয়ে দেন। পরে ডমিনিক সোবোসলাই গোল করে লিভারপুলের ব্যবধান বাড়ান, যা ছিল সাম্প্রতিক আট ম্যাচে তার পঞ্চম গোল বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। শেষ দিকে মোহামেদ সালাহ পেনাল্টি থেকে তৃতীয় গোল করে ব্রাইটনের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন।