ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের পর বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান মন্ত্রিসভা গঠন ও রাজনৈতিক সম্প্রীতির কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পর থেকে নতুন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি রাজনৈতিক যোগাযোগ ও সৌজন্য সাক্ষাতে মনোযোগ দিচ্ছেন।
এ ধারাবাহিকতায় বিএনপি চেয়ারম্যান ইতিমধ্যেই সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সঙ্গে। এবার তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন।
সাক্ষাৎটি হবে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টায় পুরানা পল্টনের নোয়াখালী টাওয়ারে ইসলামী আন্দোলনের দলীয় কার্যালয়ে। বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
এর আগে রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় তারেক রহমান প্রথমে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের বাসায় যান এবং পরে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সঙ্গে দেখা করেন। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভের পর এই ধরনের রাজনৈতিক সৌজন্য সাক্ষাতকে বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে সাধুবাদ জানানো হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১২ ফেব্রুয়ারি বিএনপি বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। নির্বাচনের ফল ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথগ্রহণ করাবেন।
এর আগে, একই দিনে সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যরাও শপথ নেবেন। তাদের শপথগ্রহণ করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন। নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের কার্যক্রম বাতিল হয়ে যাবে।
এমন উদ্যোগ ও রাজনৈতিক সৌজন্য দেখানোতে দেশের রাজনৈতিক ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভের পর নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ এবং রাজনৈতিক সম্প্রীতির প্রচেষ্টা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার তার দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচিত সরকার শপথ নিলে দেশের প্রশাসনিক ও নীতি নির্ধারণের দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন মন্ত্রিসভার হাতে হস্তান্তরিত হবে।
বিএনপি চেয়ারম্যানের এই ধরনের সৌজন্য সাক্ষাৎ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ এবং নতুন সরকারের গঠন প্রক্রিয়া দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে সহযোগিতা ও সমন্বয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।