রাজধানীর শান্তিনগর এলাকায় সংঘটিত এক ছিনতাইয়ের ঘটনায় তাৎক্ষণিক সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সি আইডি)’র এক কর্মকর্তা।
অভিযানে এক ছিনতাইকারীকে হাতেনাতে গ্রেফতার এবং ছিনতাইকৃত ৭৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এ দিন আনুমানিক বেলা ১টার দিকে ভুক্তভোগী তৌহিদ আলমগীর (৪৪) শান্তিনগর এলাকা থেকে রিকশাযোগে খিলগাঁওয়ের পূর্ব গোড়ানে নিজ বাসায় ফিরছিলেন। তিনি শান্তিনগর-এজিবি কলোনী এলাকায় সিআইডির ঢাকা মহানগর (গোয়েন্দা প্রশিক্ষণ বিদ্যালয় ভবন) কার্যালয়ের সামনে পৌঁছালে তিনজন ছিনতাইকারী তার পথরোধ করে। তারা ধারালো চাকু প্রদর্শন করে ভয়ভীতি সৃষ্টি করে তার কাছ থেকে নগদ ৭৭ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে।
ভুক্তভোগীর চিৎকারে সাড়া দিয়ে ঘটনাস্থলের নিকটেই অবস্থানরত সিআইডি ঢাকা মহানগর-উত্তর বিভাগের উপ-পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. মনির হোসেন তাৎক্ষণিকভাবে একাই ছিনতাইকারীদের ধাওয়া করেন। অসাধারণ সাহসিকতা ও তাৎক্ষণিক তৎপরতায় তিনি এক ছিনতাইকারীকে পেছন থেকে জাপটে ধরে আটক করতে সক্ষম হন। এ সময় অপর দুই ছিনতাইকারী ধারালো চাকুসহ দৌড়ে পালিয়ে যায়।
আটককৃত ব্যক্তির নাম মো. সাইদুজ্জামান সোহেল (৫২)। তার হেফাজত থেকে ছিনতাইকৃত সম্পূর্ণ ৭৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
ভুক্তভোগী তৌহিদ আলমগীর একটি বেসরকারি ওষুধ কোম্পানির এলাকা ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত। দাপ্তরিক দায়িত্ব শেষে কোম্পানির নগদ অর্থ নিয়ে বাসায় ফেরার পথে তিনি ছিনতাইয়ের শিকার হন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, আটক ব্যক্তি একজন পেশাদার ছিনতাইকারী এবং আন্তঃজেলা ডাকাতদল ও অজ্ঞান পার্টির সক্রিয় সদস্য। তার বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর ও নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে এবং একাধিক গ্রেফতারি পরোয়ানা মুলতবি আছে। অতীতেও তিনি একাধিকবার গ্রেফতার হয়েছেন।
আটক আসামি ও উদ্ধারকৃত অর্থ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রাজধানীসহ সারাদেশে ছিনতাই, ডাকাতি ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে সিআইডি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও কঠোরতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।