সুপার এইটের উদ্বোধনী লড়াইয়ে মুখোমুখি পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ড

0
10

আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের স্কয়ারের কেন্দ্রে একে একে টেনে আনা হচ্ছিল বিশাল নীল কভার। প্রতিটি কভার বহন করছিলেন ১৫ জনেরও বেশি কর্মী। এরপর এলো আরও কভার, আরও মানুষ। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুরো মাঠ ঢেকে গেল উজ্জ্বল জলরোধী আচ্ছাদনে। নিচে কী অবস্থা—তা তখন কেবল ধৈর্যের অপেক্ষা। ভাগ্যক্রমে তখন কোনো ম্যাচ চলছিল না, তবে আর মাত্র ২৪ ঘণ্টার একটু বেশি সময় পরই এখানে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

সপ্তাহজুড়ে যে বৃষ্টির পূর্বাভাস ছিল, তা নিয়েই কলম্বোয় শুরু হচ্ছে সুপার এইট পর্ব। বৃষ্টি শুধু শহর ঠান্ডা করেনি, টুর্নামেন্টে এনেছে নতুন শুরুর আবহ। ২০ দল ও প্রতিদিন তিনটি ম্যাচের ব্যস্ততা পেরিয়ে এখন প্রতিযোগিতা সংকুচিত—কম ম্যাচ, স্পষ্ট লক্ষ্য, আর আলো এখন নির্দিষ্ট কয়েক দলের ওপর।

কভারের নিচে যেমন অনিশ্চয়তা, তেমনি এই পর্বেও রয়েছে অজানা সমীকরণ। উইকেট নতুন হোক বা না হোক, থাকবে নতুন প্রতিপক্ষ, নতুন কৌশল। সুপার এইটের উদ্বোধনী ম্যাচে নামা দুই দল—পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের সামনে রয়েছে নিজেদের নতুন করে প্রমাণ করার সুযোগ।

দুই দলই গ্রুপ পর্বে তিনটি করে জয় নিয়ে এসেছে। তবুও অপূর্ণতার আক্ষেপ রয়ে গেছে। নিজেদের গ্রুপে সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে হেরেছে উভয় দল। নিউজিল্যান্ড আহমেদাবাদে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারে, আর পাকিস্তান কলম্বোয় ভারতের কাছে। সেই ম্যাচগুলোই ছিল প্রকৃত মানদণ্ড। পুনরায় সেসব প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ পেতে হলে এই পর্ব নিখুঁতভাবে পেরিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করাই একমাত্র পথ।

এটি হবে দুই দলের ৫০তম টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক সাক্ষাৎ। ৪৯ ম্যাচের মধ্যে পাকিস্তান জিতেছে ২৪টি, নিউজিল্যান্ড ২৩টি; বাকি দুটি ম্যাচ পরিত্যক্ত। প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেমন দীর্ঘদিনের, তেমনি ব্যবধানও খুব সামান্য।

পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের এই লড়াই তিক্ততার নয়, বরং পরিচিত প্রতিদ্বন্দ্বিতার। বিশেষ করে প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের ধীর ও নিচু উইকেটে ধৈর্য যেমন প্রয়োজন, তেমনি শক্তিরও পরীক্ষা হবে।

এই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চক্রে স্পিনের বিপক্ষে সবচেয়ে সফল দলগুলোর একটি নিউজিল্যান্ড—স্ট্রাইক রেটে ভারতের পরেই তাদের অবস্থান, আর ডট বল কম রাখতেও তারা দক্ষ। অন্যদিকে পাকিস্তান স্পিননির্ভর কৌশলেই আস্থা রাখছে। টার্ন সহায়ক উইকেটে সেই পরিকল্পনার সত্যিকারের পরীক্ষা হবে শক্তিশালী কিউই ব্যাটিং লাইনআপের বিপক্ষে।

আজ শনিবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ম্যাচটি কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে।

সম্ভবত একই সেন্টার স্ট্রিপ ব্যবহার হবে, যেখানে জিম্বাবুয়ে ১৭৯ রান তাড়া করে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছিল। তবে এবার উইকেটে কিছুটা বেশি ক্ষয় দেখা যেতে পারে। দিনের শেষভাগে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও দ্বীপাঞ্চলের আবহাওয়ার পূর্বাভাস দ্রুত বদলাতে পারে।

এই বিশ্বকাপে প্রেমাদাসায় পাঁচ ম্যাচের মধ্যে চারটিতে জিতেছে আগে ব্যাট করা দল, অথচ এর আগের আটটি ম্যাচেই জয় পেয়েছিল রান তাড়া করা দলগুলো।

নামিবিয়ার বিপক্ষে আগের ম্যাচে শাহিন আফ্রিদিকে বিশ্রাম দেওয়া হয় এবং বাবর আজমকে ব্যাটিং অর্ডারে নিচে নামানো হয়। বাবরের সেরা অবস্থান কোথায়—তা এখন বড় প্রশ্ন। আব্রার আহমদের জায়গায় অতিরিক্ত ব্যাটার খাওয়াজা নাফায়কে নেওয়া হয়েছে এবং কোচ মাইক হেসনের মন্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে যে একই কম্বিনেশন বজায় থাকতে পারে।

পাকিস্তানের সম্ভাব্য একাদশ: সাহিবজাদা ফারহান, সাইম আইয়ুব, সালমান আগা (অধিনায়ক), বাবর আজম, উসমান খান (উইকেটকিপার), খাওয়াজা নাফায়, শাদাব খান, মোহাম্মদ নওয়াজ, ফাহিম আশরাফ, সালমান মির্জা, উসমান তারিক।

অন্যদিকে ‘ডজি বার্গার’ খেয়ে অসুস্থ হওয়ায় আগের ম্যাচ মিস করা মিচেল স্যান্টনার এখন পুরোপুরি সুস্থ এবং নেতৃত্বে ফিরতে প্রস্তুত। লকি ফার্গুসন পিতৃত্বকালীন ছুটি শেষে ফিরছেন, তবে দীর্ঘ ভ্রমণের পর তাকে ঝুঁকিতে ফেলার সম্ভাবনা কম। ধীর উইকেট বিবেচনায় ইশ সোধি এই টুর্নামেন্টে প্রথমবার একাদশে সুযোগ পেতে পারেন।

নিউজিল্যান্ডের সম্ভাব্য একাদশ: ফিন অ্যালেন, টিম সাইফার্ট (উইকেটকিপার), রাচিন রবীন্দ্র, গ্লেন ফিলিপস, মার্ক চ্যাপম্যান, ড্যারিল মিচেল, মিচেল স্যান্টনার (অধিনায়ক), জেমস নিশাম, ম্যাট হেনরি, জ্যাকব ডাফি, ইশ সোধি।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান ৫-২ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে, যার মধ্যে ২০০৯ ও ২০২২ সালের সেমিফাইনাল জয় উল্লেখযোগ্য। পাওয়ারপ্লেতে পেসের বিপক্ষে সালমান আগার স্ট্রাইক রেট ১০৬.০৮ এবং ৭-১৫ ওভারে স্পিনের বিপক্ষে ১১০.৭৪। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার পাওয়ারপ্লে রান রেট (১০.৩৩) এখন পর্যন্ত এই টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ।