‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে কাল শুরু অমর একুশে বইমেলা ২০২৬

0
18
‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে কাল শুরু অমর একুশে বইমেলা ২০২৬

মহান ভাষা আন্দোলনের অমর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে আগামীকাল ২৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাল দুপুর ২টায় আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন করবেন। এবারের মেলার মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’।

মঙ্গলবার বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মেলার সার্বিক প্রস্তুতি তুলে ধরেন মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. মো. সেলিম রেজা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম ও পরিচালক সরকার আমিন।

জানা গেছে, এবারের মেলায় অংশ নিচ্ছে মোট ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি প্রতিষ্ঠান স্টল নিয়েছে। মোট ইউনিট সংখ্যা ১০১৮টি। গত বছর অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ছিল ৭০৮টি এবং ইউনিট ছিল ১০৮৪টি।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চসংলগ্ন গাছতলায় লিটল ম্যাগাজিন চত্বর স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে ৮৭টি লিটল ম্যাগাজিনের জন্য স্টল বরাদ্দ রয়েছে। শিশু চত্বরে অংশ নিচ্ছে ৬৩টি প্রতিষ্ঠান, ইউনিট সংখ্যা ১০৭টি। শিশুদের অবাধ চলাচল ও সহজে বই সংগ্রহের সুবিধার্থে শিশু চত্বরকে উদ্যানের মাঝামাঝি স্থানে রাখা হয়েছে।

মেলার বিন্যাসে আগের কাঠামো বজায় থাকলেও কিছু আঙ্গিকগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। মেট্রোরেল স্টেশনের অবস্থানগত কারণে বাহির পথ স্থানান্তর করে মন্দির গেটের কাছে নেওয়া হয়েছে। টিএসসি, দোয়েল চত্বর, এমআরটি বেসিং প্লান্ট এবং ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন এলাকায় চারটি প্রবেশ ও বাহির পথ থাকবে। খাবারের স্টল ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সীমানা ঘেঁষে স্থাপন করা হয়েছে।

মেলায় নামাজের স্থান, ওয়াশরুমসহ প্রয়োজনীয় পরিষেবা থাকবে। পবিত্র রমজান উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে তারাবি নামাজের বিশেষ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

বাংলা একাডেমি ও অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ২৫ শতাংশ কমিশনে বই বিক্রি করবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত কমিশনে বই বিক্রি করবে। একাডেমির বই ও পত্রপত্রিকার বিক্রয় স্টল থাকবে মেলার উভয় অংশে।

প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত মূল মঞ্চে বিষয়ভিত্তিক সেমিনার এবং বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। প্রতি শুক্র ও শনিবার বেলা ১১টা থেকে থাকবে শিশুপ্রহর। এছাড়া শিশু-কিশোরদের জন্য চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন রয়েছে। নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

মেলার নিরাপত্তায় থাকবে পুলিশ, র‍্যাব, আনসার ও গোয়েন্দা সংস্থা। পুরো এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা, ধুলা নিয়ন্ত্রণে পানি ছিটানো এবং মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

এবারও বিভিন্ন পুরস্কার দেওয়া হবে। ২০২৫ সালে প্রকাশিত গ্রন্থ থেকে গুণগত মানের ভিত্তিতে প্রকাশককে প্রদান করা হবে ‘চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার’। শৈল্পিক মানে সেরা বইয়ের জন্য থাকবে ‘মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’। শিশুতোষ গ্রন্থে অবদানের জন্য ‘রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার’ এবং স্টলের নান্দনিক সাজসজ্জায় সেরা প্রতিষ্ঠান পাবে ‘কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’। নতুনভাবে প্রবর্তিত হয়েছে ‘সরদার জয়েনউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার’, যা নতুন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্য থেকে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানপ্রাপ্তদের প্রদান করা হবে।

আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত চলবে বইমেলা। ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এবং ছুটির দিনে সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে।