সুদসহ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত

0
9
সুদসহ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত

মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে সুদসহ সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, কৃষি, মৎস্য ও পশুপালন খাতে নেওয়া ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে। অর্থাৎ কোনো কৃষক ১০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে থাকলে তার মূল অর্থ ও সুদ—উভয়ই মওকুফের আওতায় আসবে।

তিনি বলেন, ১৩তম সংসদের প্রথম মন্ত্রিসভার সভায় নেওয়া এ সিদ্ধান্ত যুগান্তকারী। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দরিদ্র কৃষকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৃষি খাতের মেরুদণ্ডকে শক্তিশালী করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি, বাণিজ্যিক, বিশেষায়িত ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কৃষকদের কাছে সুদসহ প্রায় ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে, যা এ ঋণ মওকুফ কর্মসূচির আওতায় আসবে। এতে প্রায় ১২ লাখ কৃষক উপকৃত হবেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ঋণের দায় থেকে মুক্ত হলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের কর্মস্পৃহা বাড়বে এবং উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। ঋণের কিস্তির অর্থ উন্নত বীজ, আধুনিক সেচ প্রযুক্তি বা অন্যান্য কৃষি উপকরণে বিনিয়োগ করা যাবে। ঋণের বোঝা কমে গেলে কৃষকরা নতুন উদ্যমে চাষাবাদ শুরু করতে পারবেন এবং তাদের ক্রেডিট রেকর্ডও উন্নত হবে। ফলে ভবিষ্যতে তারা স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণ নিতে পারবেন এবং উচ্চ সুদের মহাজনী ঋণের ওপর নির্ভরতা কমবে।

তিনি আরও বলেন, এ উদ্যোগের ফলে কৃষি উৎপাদন বাড়বে, আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং গ্রাম থেকে শহরমুখী অভিবাসন হ্রাস পাবে। একই সঙ্গে গ্রামীণ মূল্যস্ফীতিও কমতে পারে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব স্মরণ করেন, ১৯৯১-১৯৯৬ মেয়াদে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সরকার ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদ-আসল মওকুফ করেছিল, যা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছিল।