যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান হামলার জবাবে প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোতে টানা তৃতীয় দিনের মতো পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান।
সোমবার (২ মার্চ) ভোরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই এবং কাতারের রাজধানী দোহায় জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
ভোরের দিকে কুয়েতেও বিকট শব্দ ও সাইরেন বাজতে শোনা যায়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের কাছাকাছি এলাকা থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানায়, রুমাইথিয়া ও সালওয়া এলাকায় অধিকাংশ ড্রোন প্রতিহত করেছে কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। দেশটির সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালকের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়।
তেহরান আগেই ঘোষণা দিয়েছিল, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকলে তারা অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করবে। সোমবার হামলার তৃতীয় দিনে ইরান উপসাগরীয় শহরগুলোর বিভিন্ন বেসামরিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় আঘাত হানে। এতে আঞ্চলিক বিমান চলাচল ও বাণিজ্যকেন্দ্রগুলোর ওপর সংঘাতের প্রভাব আরও বিস্তৃত হয়েছে।
বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটিতে বিমান হামলার সতর্কসংকেত চালু করা হয়েছে এবং বাসিন্দাদের নিকটবর্তী নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে। রাজধানী মানামাকে আশপাশের শহরের সঙ্গে যুক্ত করা শেখ খলিফা বিন সালমান সেতু বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া প্রধান সড়ক ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, কুয়েতে অন্তত একজন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে তিনজন এবং কাতারে ১৬ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ২০১ জন নিহত এবং ৭৪৭ জন আহত হয়েছেন। ইসরায়েলে নিহত হয়েছেন অন্তত ৯ জন, আহত ১২১ জন।
রোববার (১ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্র, বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত যৌথ বিবৃতিতে আঞ্চলিক হামলার নিন্দা জানিয়ে আত্মরক্ষার অধিকার পুনর্ব্যক্ত করে। তারা বলেছে, নিজেদের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, তেহরান উপসাগরীয় প্রতিবেশীদের সঙ্গে সংঘাতে জড়াতে চায় না। তাঁর ভাষ্য, “পারস্য উপসাগরের ওপারের দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। তাদের সবার সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ ও সুসম্পর্ক রয়েছে, যা আমরা বজায় রাখতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা যা করছি, তা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের জবাবে আত্মরক্ষা ও পাল্টা প্রতিক্রিয়া। আমরা পারস্য উপসাগরের আমাদের ভাইদের বা প্রতিবেশীদের লক্ষ্য করছি না; আমরা মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করছি।”