ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ইসরায়েলের বিধ্বংসী হামলা

0
18
ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ইসরায়েলের বিধ্বংসী হামলা

ইরানের কোম (Qom) শহরে এক ঝটিকা অভিযানে দেশটির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র অবিচাই আদ্রাই এই হামলার খবর নিশ্চিত করেছেন। ইসরায়েলের দাবি, ওই স্থাপনা থেকে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছিল এবং হামলাটি ছিল একটি ‘প্রি-এম্পটিভ স্ট্রাইক’ বা আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, কোম শহরে ব্যালিস্টিক মিসাইল সিস্টেম ধ্বংস করার পাশাপাশি ইসফাহান (Isfahan) শহরে ইরানের একটি অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ইরানের অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ওই অঞ্চলের আকাশে ইসরায়েল নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বা ‘এয়ার সুপ্রিমেসি’ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হামলার ফলে ইরানের সামরিক পরিকল্পনা ও আক্রমণাত্মক সক্ষমতা বড় ধরনের ধাক্কা খেল।

ইসরায়েলি মুখপাত্র এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছেন যে, তাদের লক্ষ্য কেবল সামরিক সক্ষমতা ও অবকাঠামো ধ্বংস করা, সাধারণ নাগরিক বা জানমালের ক্ষতি করা নয়। তিনি দাবি করেন, এই অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর ক্ষমতা সীমিত করা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের মতো বিশাল সামরিক শক্তির সক্ষমতা কেবল বিমান হামলা দিয়ে পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি চরম অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ইরানের কৌশলগত স্থাপনাগুলোতে একের পর এক হামলার ঘটনায় বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ইরান এখন পর্যন্ত এই হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া না জানালেও, তেহরান পাল্টা প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। এই পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা এখন খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here