ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় মার্কিন হামলা: কঠোর পরিণতির হুঁশিয়ারি আরাঘচির

0
29
ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় মার্কিন হামলা: কঠোর পরিণতির হুঁশিয়ারি আরাঘচির

ইরানের তেহরানসহ বিভিন্ন অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ডিপো, তেল শোধনাগার এবং পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্টে মার্কিন বিমান হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ফার্স নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হামলার শিকার দুটি ডিপো শারান ও শাহর রে এলাকায় অবস্থিত। এছাড়া তেহরানের অদূরে কারাজ শহরের একটি তেল শোধনাগারেও হামলা চালানো হয়েছে। আল জাজিরা বলছে, এসব হামলার পেছনে মূল উদ্দেশ্য ইরানের সামরিক বাহিনীর চলাচল বিঘ্নিত করা এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক ঘটনাটি ঘটেছে কেশম দ্বীপে, যেখানে একটি মিঠা পানির ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টে হামলা চালানো হয়েছে। এই প্ল্যান্টটি ওই অঞ্চলের ৩০টি গ্রামে পানি সরবরাহ করত। হামলার ফলে স্থানীয় পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কেশম দ্বীপের মিঠা পানির প্ল্যান্টে হামলা চালিয়ে স্পষ্ট অপরাধ করেছে। ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে আঘাত হানা একটি বিপজ্জনক পদক্ষেপ, যার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। এই নজির যুক্তরাষ্ট্রই স্থাপন করেছে, ইরান নয়।’

বিশ্লেষকদের মতে, আরাঘচির বক্তব্যে ‘নজির’ শব্দটির ব্যবহার ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরানও হয়তো পাল্টা হিসেবে প্রতিপক্ষের অনুরূপ স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে। পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের পানির চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশই ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টের মাধ্যমে মেটায়। ফলে এসব স্থাপনায় হামলা অব্যাহত থাকলে পুরো অঞ্চলে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। পর্যবেক্ষকরা আশঙ্কা করছেন, এই পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here