রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার সাঁকোয়া গ্রামে ঈদুল ফিতরের নামাজের ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (৭ মার্চ) রাত ৮টার দিকে সাঁকোয়া ঈদগাহ বড় মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় এই সংঘর্ষ ঘটে। এতে আলাউদ্দিন (৬৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন, যাকে জামায়াতে ইসলামী তাদের কর্মী হিসেবে দাবি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে সাঁকোয়া ঈদগাহ মাঠে আসন্ন ঈদের নামাজের ইমাম নির্ধারণ নিয়ে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে একটি আলোচনা সভা চলছিল। সভায় উভয় পক্ষ নিজেদের পছন্দের ইমাম নিয়োগ দেওয়া নিয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে আলাউদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আলাউদ্দিনকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত আলাউদ্দিন স্থানীয় মডেল মসজিদের মুয়াজ্জিন ছিলেন বলেও জানা গেছে।
উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা জিএএম আব্দুল আউয়াল নিহত আলাউদ্দিনকে তাদের সক্রিয় কর্মী দাবি করে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আলাউদ্দিন বিএনপির সমর্থক ছিলেন তবে তার ছেলেরা জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জামায়াত নেতাকর্মীরা রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়ক অবরোধ করেন এবং টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। খবর পেয়ে মোহনপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালায়। মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।