পুত্রবধূকে বরণ করার বদলে মোংলা উপজেলার শেলাবুনিয়ায় বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাকের বাড়িতে এখন চলছে মাতম। গ্রামবাংলার চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী আজ শুক্রবার (১৩ মার্চ) যেখানে নতুন বর-বউকে ঘিরে আনন্দ-উল্লাস ও ভোজের আয়োজন থাকার কথা ছিল, সেখানে এখন শুধুই স্বজন হারানোর হাহাকার। বাড়ির আঙিনায় সারিবদ্ধভাবে রাখা খাটিয়ায় শুইয়ে রাখা হয়েছে ৯টি মরদেহ, যাদের দাফনের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর স্টাফ বাসের সঙ্গে বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বর-কনে ও চালকসহ দুই পরিবারের মোট ১৪ জনের প্রাণহানি ঘটে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মোংলা পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, তার ছেলে বর আহাদুর রহমান সাব্বির, কনে মারজিয়া আক্তার মিতু, কনের বোন লামিয়া এবং পরিবারের শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্যরা। নিহত ১৪ জনের মধ্যে ৯ জনের মরদেহ মোংলায়, ৪ জনের মরদেহ কয়রায় এবং মাইক্রোবাস চালকের মরদেহ রামপালে নেওয়া হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই গভীর রাতে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে জানিয়েছেন কাটাখালি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাফর আহমেদ।
নিহত আব্দুর রাজ্জাকের প্রতিবেশী মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, নিহতদের গোসল সম্পন্ন হয়েছে এবং জুমার নামাজের পর জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠিত হবে। এই জানাজায় বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে, চোখের পলকে পরিবারের সবাইকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নিহত বরের ভাই জনি। তিনি বলেন, আমার সব শেষ হয়ে গেছে। স্ত্রী-সন্তান, ভাই-বোন সবাইকে হারিয়ে আমি আজ একা।