নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটি পড়ে থেকে নষ্ট তবু তেল খরচ ৫০ হাজার টাকা

0
106

ভোলার দুর্গম জনপদ তজুমদ্দিন উপজেলায় জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিতে সরকারের দেওয়া প্রায় ৩০ লাখ টাকা মূল্যের নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটি একদিনের জন্যও রোগী আনা-নেওয়া হয়নি। বছরের পর বছর খালে পড়ে থাকা ছাড়া কোনো কাজই হয়নি এটি দিয়ে। তবু এ বাবদ ৫০ হাজার টাকা ডিজেল খরচ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে ২০২৩ সালে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে একজনকে অ্যাম্বুলেন্স চালানোর প্রশিক্ষক দিয়ে বেতনভাতাও দেওয়া হয়েছে। তারপরও অকেজো পড়ে থেকে ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এখন ভেতরে ময়লা-আবর্জনা জমে রোগী বহনের অনুপযোগী হয়ে গেছে নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটি।

প্রায় ৩০ লাখ টাকার অ্যাম্বুলেন্সে একদিনও রোগী আনা-নেওয়া হয়নি।
কাজে না লাগলেও ডিজেল খরচ বাদদ ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন।
একজনকে প্রশিক্ষক দিয়ে চালক হিসেবে বেতন-ভাতা দেওয়া হয়েছে।

তজুমদ্দিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, উপকূলীয় দুর্গম এলাকার মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে কমিউনিটি বেজড হেলথ কেয়ার প্রকল্পের মাধ্যমে ২০১৯-২০ অর্থবছরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি নৌ-অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ দেয় সরকার। বরাদ্দ অনুযায়ী ২০২০ সালের ১৬ জানুয়ারি এটি তজুমদ্দিন হাসপাতালে হস্তান্তর করা হয়। এর বরাদ্দ মূল্য ছিল ৩০ লাখ টাকা।

বরাদ্দের চার বছর পর সরজমিনে দেখা যায়, নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটি শশীগঞ্জ স্লুইজগেটের দক্ষিণ পাশে বেড়িবাঁধের ভেতরে একটি বাঁধা খালে (নদীর সঙ্গে সংযোগহীন খাল) অকেজো অবস্থা পড়ে আছে। সামনের ও পাশের গ্যাস ও যন্ত্রপাতি ভাঙা। ভেতরে রোগী শোয়ার ও স্বজনদের বসার আসন নেই। এ কারণে রাষ্ট্রের ৩০ লাখ টাকা গচ্চা ছাড়া আর কোনো কাজে আসেনি।

একদিনের জন্য না চলা নৌ-অ্যাম্বুলেন্সে একজন রোগীও বহন করতে পারেনি। এসবের মধ্যে ২০১৯-২০ অর্থবছরে চর জহিরউদ্দিন ও চর মোজাম্মেলে চলাচল বাবদ ৫০ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে তেল খরচ দেখিয়ে। তবে তেল খরচের কোনো বিল-ভাউচার নেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে।

জানা গেছে, উপজেলার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল চর মোজাম্মেল, চর জহিরউদ্দিন, চর নাসরিন, সিডার চর, চর উরিলে বসবাসরত মানুয়ের জরুরি চিকিৎসার সরকার নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটি ব্যবহার হওয়ার কথা। তবে বুঝে পাওয়ার পর একদিনের জন্যও এটি কাজে আসেনি চরবাসীর।

ভোলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানসহ নানা কারণে তজুমদ্দিন উপজেলার অ্যাম্বুলেন্সটি ২০২০ সালের ২২ মে বিকল দেখানো হয়। কিন্তু ২০২৩ সালের ২৩ জানুয়ারি আউটসোর্সিং থেকে মহিউদ্দিন নামের একজনকে ড্রাইভার হিসেবে পাঁচ দিনের ট্রেনিং করায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে কমিউনিটি বেজড হেলথ কেয়ার প্রকল্পের মাধ্যমে তাকে বেতনভাতাও দেওয়া হয়েছে।

চর এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানিয়েছেন, বছরের পর বছর সরকারি নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটি পড়ে থেকে নষ্ট হয়েছে, কিন্তু চরাঞ্চলবাসীর কোনো কাজেই আসেনি। চরাঞ্চলের মানুষ যে কোনো সমস্যায় শশীগঞ্জ সুইজঘাটের ট্রলারে পারাপার হয়ে থাকে। রাতে কারো চিকিৎসা বা অন্য জরুরি প্রয়োজনে ঘাটের মাঝিদের ফোন দিলে তারাই পার করেন তাদের।

শশীগঞ্জ সুইজঘাটের ব্যবসায়ী মো. আব্দুল্যাহ বলেন, চরাঞ্চলের মানুষের জন্য নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটি বরাদ্দ দেওয়া হলেও এটি চরবাসীর কোনো কাজেই আসেনি। এ পর্যন্ত একজন রোগীও বহন করতে পারেনি অ্যাম্বুলেন্সটি। বর্তমানে শশীগঞ্জ সুইজঘাটের দক্ষিণ পাশে বেড়িবাঁধের ভিতরে একটি খালের মধ্যে অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে রাষ্ট্রের টাকায় কেনা অ্যাম্বুলেন্সটি।

নৌ-অ্যাম্বুলেন্স সুবিধার বিষয়ে জানতে চাইলে চরাঞ্চলে বসবাসরত একাধিক লোকজন বলেন, সরকার তাদের জন্য এমন একটি বাহনের ব্যবস্থা করছিল, তা তারা জানেনই না।

জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা উত্তম কুমার সরকার বলেন, ‘আমি এখানে (তজুমদ্দিন) নতুন যোগদান করেছি। তারপরও যতদূর জানতে পেরেছি, কমিউনিটি বেজড হেলথ কেয়ার প্রকল্পটি বন্ধ হওয়ার কারণে এটি চালু করা সম্ভব নাও হতে পারে। এটি একেবারেই মেরামতের অযোগ্য বর্তমানে। তবুও যোগাযোগ করে দেখতে হবে, অ্যাম্বুলেন্সটি কি করা যায়।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here