গাইবান্ধায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে ৪ শিশু বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং ২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে গাইবান্ধার ইপিআই স্টোর বিভাগ সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
জেলা ইপিআই স্টোর বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ৩ জন, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন এবং সাঘাটা উপজেলায় ১ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ২ জন এবং সুন্দরগঞ্জে ২ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। চিকিৎসা শেষে সদর ও সাঘাটার একজন করে শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডা. আসিফ রহমান জানান, হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের মধ্যে হাম-রুবেলার উপসর্গ স্পষ্ট। সংক্রমণ ছড়ানো রোধ করতে আক্রান্তদের আলাদা কক্ষে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, এখানে পরীক্ষার সুযোগ না থাকায় নিশ্চিত হওয়ার জন্য আক্রান্ত ছয় শিশুর রক্তের নমুনা ঢাকার মহাখালীতে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেতে ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে।
ইপিআই স্টোর বিভাগের সুপারিন্টেন্ডেন্ট শরীফুজ্জামান বলেন, এটি একটি ছোঁয়াচে রোগ। তিনি শিশুদের জ্বর ও শরীরে র্যাশ বা এ্যাশ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান। এছাড়া আক্রান্ত শিশুদের অন্য শিশু বা লোকজনের কাছ থেকে দূরে রাখা এবং স্কুলগামী শিশুদের মধ্যে উপসর্গ দেখা দিলে বিদ্যালয়ে যাওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
গাইবান্ধার সিভিল সার্জন ডা. রফিকুজ্জামান বলেন, “বর্তমানে ভর্তি হওয়া শিশুরা স্বাভাবিক পর্যায়ে রয়েছে। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।” তিনি আরও জানান, হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জেলায় ৯ মাস বয়সী ১১ হাজার ৯৮০ জন এবং ১৫ মাস বয়সী ১১ হাজার ৯৪০ জন শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হয়েছে, যেখানে ড্রপআউট বা টিকা নেওয়ার হার প্রায় শতভাগ। সিভিল সার্জন জনগণকে সচেতন থেকে নিয়মিত টিকাদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।