মোরেলগঞ্জ হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

0
1
মোরেলগঞ্জ হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বর্তমান সরকার চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, বিগত সরকারের সময়ে স্বাস্থ্যখাতে সীমাহীন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ লুটপাটের কারণে দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল। সেই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে জনগণের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ ৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “জনগণের দোরগোড়ায় আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে দেশের ৫০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে পর্যায়ক্রমে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হচ্ছে। চিকিৎসাসেবার মান বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

পরিদর্শনকালে তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং সেবার সার্বিক মান, চিকিৎসক সংকট, রোগীদের খাবারের গুণগত মান, ওষুধ ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী এই পরিদর্শনে হাসপাতালের নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দেখে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

মন্ত্রী বলেন, “আমার দেশের দরিদ্র মানুষ প্রয়োজনীয় ওষুধ পায় না, অথচ এখানে লাখ লাখ টাকার মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পড়ে আছে। এমনকি হাসপাতালের বাথরুমেও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে সরকারি ওষুধ পাওয়া গেছে। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

তিনি আরও বলেন, “সাধারণ জনগণ ভোট দিয়ে আমাদের নির্বাচিত করেছেন। জনগণের প্রতি আমাদের একটি বড় দায়বদ্ধতা রয়েছে। অতীতের অজুহাত দিয়ে আর লাভ নেই। আমরা সারা বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চাই। আমরা চাই না কোনো মানুষ বিনা চিকিৎসায় মারা যাক। যা আছে, তা দিয়েই গরিব মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে চাই।”

এ সময় তিনি ঘোষণা দেন যে, মোরেলগঞ্জ ৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। তিনি জানান, অল্প সময়ের মধ্যেই হাসপাতালটির উন্নয়নকাজের টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ঘটনাস্থলেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী সিভিল সার্জন, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশ দেন।

পরিদর্শন শেষে তিনি হাসপাতালসংলগ্ন একটি বেসরকারি ক্লিনিকও পরিদর্শন করেন। সেখানে কিছু অসংগতি দেখতে পেয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন এবং স্বাস্থ্যসেবার মান বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেন।

একই সঙ্গে হাসপাতালে বিভিন্ন সময়ে মজুত থাকা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে ধ্বংস করার জন্য জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকারদার, মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল হোসেন মুফতি, বিএনপি নেতা সোমনাথ দে, স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী পার্শ্ববর্তী শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “জনগণের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে যা যা প্রয়োজন, সরকার তা করবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here