গাজায় দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে মার্কিন মধ্যস্থতায় এক যুগান্তকারী শান্ত চুক্তিতে পৌঁছেছে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন হামাস ও ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রের গঠন করা ‘গাজা বোর্ড অব পিস’ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সমঝোতার অংশ হিসেবে হামাস পর্যায়ক্রমে তাদের সব অস্ত্র সমর্পণ করতে সম্মত হয়েছে। এর বিনিময়ে গাজা উপত্যকায় দখল করা অঞ্চলগুলো থেকে ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহার করে নেবে ইসরায়েলি বাহিনী।
প্রকাশিত চুক্তির রোডম্যাপ অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা ও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে গাজার যাবতীয় অস্ত্রের একটি চূড়ান্ত তালিকা জমা দিতে হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে ভারী অস্ত্র, সামরিক কারখানা, সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক এবং গোলাবারুদের গুদাম চিহ্নিত করে তা নিষ্ক্রিয় করা হবে। ফিলিস্তিনি বিভিন্ন দলের সমন্বয়ে গঠিত ‘জাতীয় প্রশাসনিক কমিটি’ অস্ত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি প্রত্যক্ষভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।
চুক্তির শর্তে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, উদ্ধারকৃত কোনো অস্ত্র সরাসরি ইসরায়েল বা অন্য কোনো বিদেশি শক্তির হাতে তুলে দেওয়া হবে না। পুরো প্রক্রিয়াটির নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে একটি আন্তর্জাতিক যাচাইকরণ কমিশন, আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী এবং নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনী কাজ করবে। আন্তর্জাতিক বাহিনীর উপস্থিতি এবং অস্ত্র জমা দেওয়ার অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে ইসরায়েলি বাহিনী নির্ধারিত সীমান্ত রেখায় পিছিয়ে যাবে।
গাজা বোর্ড অব পিসের উচ্চ প্রতিনিধি নিকোলাই ম্লাদেনভ এই চুক্তিকে গাজার পুনর্গঠন ও টেকসই শান্তির পথে একটি ঐতিহাসিক অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে মাঠপর্যায়ে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের মধ্যে এখনো তা নিয়ে ব্যাপক সংশয় দেখা যাচ্ছে। হামাসের নীতি নির্ধারণী প্রতিনিধি গাজী হামাদ হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, ইসরায়েল চুক্তির শর্ত ভঙ্গ বা বাস্তবায়নে টালবাহানা করলে হামাসও কোনো পদক্ষেপ মেনে চলবে না।